বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের তালিকা

বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের তালিকা

বঙ্গদেশ দীর্ঘ সময় যাবৎ ইসলামিক শাসনে ছিল। এখনও বঙ্গদেশের বৃহদংশ ইসলামিক শাসনে রয়েছে। এর জন্য বাংলা ভাষায় বহু আরবি-ফারসি শব্দ প্রবেশ করেছে। এই শব্দগুলিকে চিহ্নিত করা ও তার উপযুক্ত বাংলা প্রতিশব্দ সবাইকে জানানোর জন্যই এই লেখা। বিনায়ক দামোদর সাভারকরের অনুসরণে আমাদের বাংলা ভাষা থেকে এই শব্দগুলোর ব্যবহার বন্ধে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

বাংলা ভাষায় আরবি শব্দ

শব্দআরবি-তে
আক্কেলعقل ‘অক়্ল্
আসলأصل অস্ল্
এলাকাعلاقة অলাক়ঃ
ওজনوزن ৱজ়্ন্
কবরقبر ক়ব্র্
খবরخبر খ়বর্
খালিخالي খ়ালী
খেয়ালخيال খ়য়াল্’
গরিবغريب ‘গ়রীব্
জবাবجواب জৱাব্
জমাجمع জম্’
জিনিসجنس জিন্স্
তারিখتاريخ তারীখ়্
দুনিয়াدﻧﯿـا দুনিয়া
নকলنقل নক়্ল্
ফকিরفقير ফক়ীর্
বদলبدل বদল্
বাকিبقي বাক়ী
সাহেবصاحب সাহিব্
হিসাবحساب হিসাব্

বাংলা ভাষায় ফার্সি শব্দ

শব্দফার্সিতেশাস্ত্রীয় উচ্চারণঈরানী উচ্চারণ
আওয়াজآوازআৱাজ়আভ়াজ়
আন্দাজاندازهঅন্দাজ়ঃঅন্দাজ়ে
আয়নাآینهআয়িনঃআয়েনে
আরামآرامআরামআরাম
আস্তেآهستهআহিস্তঃআহেস্তে
কাগজكاغذকাগ়জ়কাগ়জ়
খারাপخراب “নষ্ট”খ়রাবখ়রাব
খোদাخداখ়ুদাখ়োদা
খুবخوب “ভাল”খ়ূবখ়ূব
গরমگرمগর্মগর্ম
চশমাچشم ها ”চোখগুলো”চশ্ম-হাচেশ্মা
চাকরিچاکریচাকরীচাকরী
চাদরچادرচাদুরচাদোর
জানجانজানজান
জায়গাجايگاهজায়্গাঃজায়্গাঃ
ডেকচিديگچهদেগচঃদীগচে
দমدمদমদম
দেরিديرদেরদীর
দোকানدكانদুকানদোকান
পর্দাپردهপর্দাপর্দে
বদبدবদবদ
বাগানباغانবাগ়ানবাগ়ান
রাস্তাراستهরাস্তারাস্তে
রোজروز “দিন”রোজ়রূজ়
হিন্দুهندو ”ভারতীয়/ভারতবর্ষীয়”হিন্দূহেন্দূ
পছন্দپسندপসন্দ্পসন্দ্

বাংলা ভাষায় তুর্কি শব্দ

শব্দতুর্কি-তে
কোরমাkorma
চকমকçakmak
দাদাdede
নানিnine
বাবাbaba
বাবুর্চিbaburchi
বেগমbegüm

Hits: 629

India Renascent

India Renascent

This entry is part 1 of 1 in the series Bande Mataram Early Political Writings

The patriot who offers advice to a great nation[^1] in an era of change and turmoil, should be very confident that he has something worth saying before he ventures to speak; but if he can really put some new aspect on a momentous question or emphasise[^2] any side of it that has not been clearly understood, it is his bounden duty, however obscure he may be, to ventilate it.

The[^3] commonplace that India is in transition has of late been strongly impressed on us by certain English empiricists; they have devoted whole articles and pamphlets to marshal proofs and enumerate instances in support of this proposition

It is time that an Indian who has devoted his best thoughts and aspirations to the service of his country, should have in his turn a patient hearing.

India[^4] is indeed a snake who has rejected her outworn winter weeds

Later edition of this work: The Complete Works of Sri Aurobindo.- Set in 37 volumes.- Volumes 6-7.- Bande Mataram: Political Writings and Speeches. 1890–1908 .- Pondicherry: Sri Aurobindo Ashram, 2002.- 1182 p.

[^1]: 2002 ed.: who passes judgment on a great movement

[^2]: 2002 ed.: emphasize

[^3]: This paragraph was absent in this edition. It was taken from the edition of 2002 year.

[^4]: This phrase was absent in this edition. It was taken from the edition of 2002 year.

Hits: 243

আমার বন্ধু শামীম

আমার বন্ধু শামীম

কলেজে পড়ার সময় আমার এক বন্ধু ছিল শামীম। পুরো নাম মহম্মদ শামীম আলম। শামীম উত্তরপ্রদেশের আলীগড় থেকে পড়তে এসেছিল। ছেলেটি ছিল গোঁড়া মুসলমান, উর্দু ভাষার ছাত্র, পড়াশুনার পাশাপাশি আইসা নামে একটি অতিবাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সহজভাবে ভাবলে আমার সঙ্গে ওর কোন বন্ধুত্ব না হওয়াই স্বাভাবিক। তবুও কিছু কারণবশত ওর সঙ্গে আমার গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সেমিস্টারের শেষে যখন বাড়ি যেতাম তখন আমার ট্রেন নীলাচল এক্সপ্রেস ভোর চারটের সময় স্টেশন থেকে ছাড়ত। আমি রাত তিনটার সময় হোস্টেল থেকে বেরিয়ে পুরো এক কিলোমিটার হেঁটে ইউনিভার্সিটির গেটের বাইরে বেরিয়ে অটো ধরে রেলস্টেশন যেতাম। সে রাতে আর ঘুমানো হতো না, আমি আর শামীম রাত জেগে হোস্টেলের টিভি রুমে বসে বসে গল্প করতাম। আমার যে ব্রাহ্মণ রুমমেট ছিল ঘোর হিন্দুত্ববাদী, যে প্রায়ই নানা বিষয়ে লেকচার ঝাড়ত, সে ঠিক সময়ে ঘুমিয়ে যেত, কিন্তু শামীম ঘুমোত না। আমার সঙ্গে সঙ্গে সারা রাত জেগে গল্প করত, তারপর সময় হলে জিনিসপত্র গুছিয়ে আমরা দুজনে ট্রলি ব্যাগটিকে টেনে টেনে উনিভার্সিটি গেট পর্যন্ত যেতাম। আমাকে অটোতে তুলে দিয়ে শামীম তার হোস্টেলে ফিরে যেত।

শামীমরা ছিল অভিজাত সুন্নি সৈয়দ মুসলমান। ওর কোন একটা আত্মীয় আলীগড়ের একটা বড় মসজিদের ইমাম ছিল। সে যাই হোক। একদিন আমরা হোস্টেলে বসে বসে গল্প করছি, হঠাৎ করে শামীমের ফোনে একটা কল এল। শামীম ফোন তুলে হ্যালো বলে কথা বলতে থাকল। দুমিনিট কথা শুনেই আমি বুঝলাম যে কোন একটি মেয়ে ফোন করেছে, আর শামীম তার সাথে ফ্লার্ট করছে। কিছুক্ষন পর ভাটের বকা বন্ধ হলে মেয়েটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় শামীম বলল, “আর বলিস না। আফসানা বলে একটি মেয়ে আছে। মুনিরকায় ভাড়া থাকে। চাকরি করে। আমি টাইম পাস করি। দেখতে কিন্তু হেভি আছে।”

আমি বললাম, “দেখতে হেভি আছে, তোর পেছনে লেগে আছে, চাকরি করে, তো বিয়ে করে নে। সব সুযোগ সবসময় পাবি কি?”

এই শুনে শামীম বলল, “না ভাই। বিয়ে তো আমি কোন হিন্দু মেয়েকেই করব।”

আমি শুনে একটু চুপ করে গেলাম। তারপর বললাম, “ঠিক আছে। তোর মর্জি।”

শামীম তখন আমাকে বোঝাতে শুরু করল, “দ্যাখ ভাই। পড়াশুনার পাশাপাশি আমি পলিটিক্সটাও তো করি। আলীগড়ে আমাদের পরিবারের বেশ জানাশুনাও আছে। কোন পার্টি জয়েন করে যদি কিছু পদ পেয়ে যাই, কোন হিন্দু মেয়েকে তো সহজেই বিয়ে করতে পারব, তাই না?”

আমি বললাম, “হ্যাঁ নিশ্চয়ই। লেগে থাক।”

তখন শামীম বলল, “তবে তুই একটা কাজ করতে পারিস। তুই আফসানাকে পটিয়ে ফেল। আমি হেল্প করব। খাসা মাল আছে ভাই।”

শামীমের দৌলতে আফসানার সঙ্গে দেখাও হয়েছিল। খাসা মেয়েই বটে। এই মেয়েটিও সৈয়দ। দেখা হওয়ায় কোন লাভ হয়েছিল কিনা সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। একদিন শামীমকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “আফসানার সাথে প্রেম করে আমার কি হবে? আমি তো হিন্দু।”

শামীম বলল, “তাতে কি আছে? তুই মুসলমান হয়ে গেলেই হবে। সামান্য ব্যাপার।”

আমি বললাম, “কিন্তু তাতে কি? আফসানারা সৈয়দ। আমি নিচু জাতের হিন্দু। মুসলমান হয়েই বা কি হবে? আমি কি সৈয়দ হতে পারব?”

শামীম অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। তারপর বলল, “তুই এখনো আমাদের সমাজকে চিনিস না। যারা অন্য ধর্ম থেকে স্বেচ্ছায় আমাদের ধর্মে আসে, তাদের আমরা খুব উঁচুতে স্থান দিই। তুই নিশ্চয়ই সৈয়দ হবি। তুমি এত পড়ালিখা করা ছেলে, এত সৎ ও সাহসী, তোর মধ্যে সৈয়দ হওয়ার সব গুন আছে। তোরাই তো ভবিষ্যতে ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবি। আমাদের পরিবারও সৈয়দ। তোকে আমাদের সমাজের একজন করার সব দায়িত্ব আমি নেব।”

এত দিন পরেও শামীমের সেই কথাগুলো হুবহু মনে পড়ে। আফসানার সঙ্গে প্রেম হয়নি, আমারও সৈয়দ হওয়া হয়নি। শামীমের সঙ্গেও আর যোগাযোগ নেই। তবে শামীমকে এখনো আমি বন্ধুর চোখেই দেখি। শামীম ভুল না ঠিক সেই প্রসঙ্গ এখানে আপাতত অপ্রয়োজনীয়। কারণ শামীম অসৎ কিছু করতে চেয়েছিল বলে আমার কোনদিন মনে হয়নি। সে তার নিজ বিশ্বাস অনুসারে বন্ধুকে তার ধর্ম ও সমাজে প্রবেশ করাতে চেয়েছিল। যথেস্ট সম্মানের সাথেই চেয়েছিল। এটাই তো স্বাভাবিক। শামীম চাইত তার ধর্মের বিস্তার ঘটুক। বিস্তারই ধর্মের জীবনকাঠি। যে ধর্ম ও সমাজ নিজেকে বিস্তার করতে পারে, তারাই পৃথিবীতে এগিয়ে যায়। যারা পারে না, তারা বিলীন হয়ে যায়।

আফসানা ছাড়া আরও একটি মুসলিম মেয়ের কথা এখানে অল্প বলার আছে। এর নাম আকসা। আকসা আর আফরিন ছিল দুই বোন। এরা ছিল লখনৌয়ের অভিজাত শিয়া পরিবারের মেয়ে। আকসা মধ্যযুগের ইতিহাসের ছাত্রী ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে কি একটা বিষয় নিয়ে রিসার্চ করত মনে নেই। দুই বোনই ছিল কথায় বার্তায়, চলনে বলনে খুব আধুনিক, জিন্স আর টপ ছাড়া অন্য কিছু পরত না। আফরিনের সাথে আমার সেরকম পরিচয় ছিল না। মেয়েটিও ছিল খুব মুডি আর গম্ভীর ধরনের। আকসা ছিল ওর ছোট বোন। এ ছিল দিদির উল্টো, খুব হাসিখুশি, সহজ সরল। আকসার সাথে কিভাবে যোগাযোগ হয়েছিল অত কথা বলা যাবে না। চা খেতে খেতে গল্প করার সময় আকসা আমাকে প্রায়ই মুঘল যুগে ভারত কত উন্নত ছিল, মুঘল শাসকরা কত উদার ছিলেন ও সেসময় নারী স্বাধীনতা কতটা বেশি ছিল এসব বোঝানোর চেষ্টা করত। এর পাশাপাশি লখনৌয়ে ওদের পরিবার, খাবারদাবার ও জীবনযাত্রা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা হত। একদিন এই রকমই এক চায়ের আড্ডায় আমি আকসাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আকসা, তোমার তো ‘ইসলামে নারীর অবস্থান’ নিয়ে লেখাপত্র আছে। আমি কদিন আগে ইন্টারনেটে একটি প্রবন্ধ পড়ছিলাম। পড়ে খুবই আশ্চর্য হয়েছি। সেখানে লেখা আছে যে নবী হজরত মহম্মদ বিভিন্ন যুদ্ধজয়ের পর অনেক যৌনদাসী রাখতেন। এমনটি উনি তিপান্ন বছর বয়সে মাত্র ছয় বছর বয়সী হজরত আয়েশাকে বিয়ে করেন। এই তথ্যগুলোর সত্যমিথ্যা নিয়ে তোমার কাছে জানতে চাইছি। তোমার কি মত?”

আকসা তো শুনে রেগে আগুন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ গুছিয়ে টেবিল ছেড়ে উঠে যায় আর কি। অনেক কষ্টে ওকে চেপেচুপে আবার বসালাম। কিছুক্ষন পর একটু ঠান্ডা হয়ে আকসা বলল, “দেবব্রত, তোমাকে এতদিন দেখছি, তোমার কাছ থেকে এরকম কথাবার্তা তো আশা করিনি। এসব কথা তো বলে যারা একদম অশিক্ষিত, কোনদিন কিচ্ছু পড়াশুনা করেনি তারাই। তুমি শিক্ষিত ছেলে হয়েও এসব বলবে? ছি ছি, তাহলে তোমার সঙ্গে ওদের তফাৎ কি রইল?”

আমি কাঁচুমাচু হয়ে বললাম, “সরি, ভুল হয়ে গেছে। ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য, ওগুলোর কি সত্যি মিথ্যা বোঝার উপায় আছে?”

এই শুনে আকসার মন ঠান্ডা হল। আমাকে একটু করুনার দৃষ্টিতে দেখে ইসলামের বিভিন্ন গুণাবলী বোঝাতে শুরু করল।

কতদিন কেটে গেছে, কিন্তু আকসার সঙ্গে সেই কথাবার্তাগুলো ভুলিনি। আকসা এখন কোথায় আছে জানি না, তবে আমি শামীমের মত আকসাকেও উন্নত ও বুদ্ধিমান মানুষ বলেই মনে করি। আকসা সুন্দরী ছিল, স্মার্ট ছিল, শিক্ষিতা ছিল, অভিজাত পরিবারের মেয়ে ছিল, আধুনিকা নারীর সব গুনই ওর মধ্যে ছিল। তবুও নিজ ধর্ম, প্রথা, পরম্পরা ও সমাজের বিষয়ে আকসা যথেষ্ঠ গর্বিত ও রক্ষণশীল ছিল। নারী চরিত্র তো এমনিই হওয়া উচিত।

এরকম অভিজ্ঞতা অনেক আছে। যাই হোক, আকসাদের মত মেয়ের সাথে হিন্দু উচ্চবর্ণের তথাকথিত আধুনিক মেয়েদের পার্থক্য যে কি তা ব্যাখ্যা করা খুব সময়সাপেক্ষ নয়। একটা ঘটনা বলছি। দিল্লিতে সিরি ফোর্ট নামে একটি জায়গা আছে। এটি কলকাতার নন্দনের মত একটি জায়গা, এখানে নানা বিদেশী আর্ট ফিল্মের প্রদর্শনী হয়। এখানে একবার ‘ইস্ট এশিয়ান’ সিনেমার প্রদর্শনী হচ্ছিল। আমি দেখতে গিয়েছিলাম। সেদিন একটা কোরিয়ান সিনেমা ছিল। আমি যখন পৌঁছাই তখনও সিনেমা শুরু হতে অনেক বাকি। সিনেমা হাউসের লনে ও কফি হাউসে অনেক অভিজাত বুদ্ধিজীবী লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে গল্প করছিল। কোন এক চ্যানেলের একটি মেয়ে সাংবাদিক তার ক্যামেরাম্যানকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে যাকে তাকে নানা প্রশ্ন করছিল। হটাৎ মেয়েটির চোখে পড়ল একজোড়া যুবক যুবতী এক কোনে বসে আছে। ছেলে মেয়ে দুটির কথাবার্তা, সাজসজ্জা আর পোশাক আশাক দেখেই বোঝা যায় যে এরা অত্যন্ত ধনী ও অভিজাত পরিবার থেকে আসা। সাংবাদিক মেয়েটি ওই দুটি ছেলেমেয়ের কাছে এসে ওদের ইন্টারভিউ নেওয়া শুরু করল। ছেলেটি একটু গম্ভীর ছিল, কিন্তু মেয়েটি বেজায় খুশি হয়ে গেল। হেসে হেসে নানা স্মার্ট অঙ্গভঙ্গি করে মেয়েটি গদগদ হয়ে ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। কথায় কথায় মেয়েটি চপল ভঙ্গিতে ইয়ার্কি মেরে বলল যে সে বাঙালী, তাই আর্ট ফিল্ম ব্যাপারটা সে তার “বেরসিক” বয়ফ্রেণ্ডের চেয়ে বেশি বোঝে। এই শুনে ছেলেটা একটু মুচকি হাসল। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শেষ করে যখন ওদের নাম জিজ্ঞাসা করা হল, তখন মেয়েটি বলল যে ওর নাম সুর্যানী মুখার্জী। ছেলেটার নাম জিজ্ঞাসা করায় সে বলল, ওর নাম শাহনওয়াজ খান।

গল্পটা শুনে কিছু বোঝা গেল কি?

একবার অন্বেষা মুখার্জী বলে একটি বাঙালী মেয়ের সঙ্গে একটু আলাপ হয়েছিল। মেয়েটি দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজের ছাত্রী ছিল। দেখতে শুনতে বেশ স্মার্ট আর বড়লোকের মেয়ে। সাম্যবাদ, উদারতা, নারীবাদ ইত্যাদি বিষয়ে প্রায়ই লেকচার দিত। আমি রক্ষণশীল দক্ষিণপন্থী বলে আমি যে একটি সঙ্কীর্ণমনা বর্বর তাও আকারে ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করত। আমি ওর বোলচাল শুনে আশ্চর্য হয়ে যেতাম। এই যে মুখার্জী ব্রাহ্মণ, যারা আজ থেকে একশ বছর আগেও কোন কাজবাজ না করে স্রেফ লোকের জাত মেরে বেড়াত, তাদেরই মেয়ে একশ বছর পরে আমাকে শেখাবে “সাম্যবাদ”? যে ব্রাহ্মণরা একশ বছর আগেও কুলীন প্রথার নামে ষাট বছর বয়সেও পঞ্চাশটা করে কচি মেয়েকে বিয়ে করত আর বুড়োগুলো মারা গেলে তাদের আত্মীয়রা সেই কচি বিধবা মেয়েগুলিকে সাদা শাড়ি পরিয়ে কাশীতে ভিক্ষা করার জন্য পাঠিয়ে দিত, সেই ব্রাহ্মণের মেয়ে আজ একশ বছর পরে আমাকে শেখাবে কিছু বিদেশী বই থেকে ধার করা “নারীবাদ”?

দুদিন টিভিতে ‘সেক্স এন্ড দ্যা সিটি’ সিরিয়াল দেখে নিজেকে জেসিকা পার্কার ভেবে ভাঁড়গিরি করা ওইসব উচ্চবর্ণের বাঙালী মেয়েদের নিয়ে কথা বেশি বলার প্রয়োজন দেখি না। শুধু একটা কথাই বলার আছে যে এদের সাথে আকসা, আফরিন বা আফসানার মত মেয়েদের কোন তুলনাই হয় না।

এক উদ্ভ্রান্ত, ব্যক্তিত্বহীন, ভীরু, অপরিণামদর্শী সমাজের মুখে যে কোন আদর্শ, সে সাম্যবাদই হোক বা ব্রাহ্মণ‍্যবাদ, নারীবাদ হোক বা অবগুণ্ঠনবাদ, উদারতা হোক বা রক্ষণশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা হোক বা হিন্দুত্ববাদ, নাস্তিকতার সবজান্তাগিরি হোক বা আস্তিকতার দেখনদারি, সব কিছুই হাস্যকর। তাই তথাকথিত স্বাধীনোত্তর ভারতে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের যাবতীয় রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ড, সে সিপিএম হোক বা আর এস এস, পুরোটাই সস্তা ভাঁড়ামি। এতে চিৎকার আর স্লোগানবাজি অনেক আছে, তবে কাপুরুষের নিরাপদ দূরত্বের চিৎকারে দেশ বা সমাজের আদৌ কোন প্রকৃত সাফল্য আসেনি।

এই নিয়ে আরো অনেক কথাই বলার আছে। ধীরে ধীরে সেসব বলা যাবে।

দেবব্রত মণ্ডল

Hits: 153

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন শেষ পর্ব

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন শেষ পর্ব

বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় মডেল শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি প্রেম করে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন আদনান ফারুক হিল্লোলকে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব উজ্জ্বলবিকাশ দত্তের কন্যা তিন্নি মিডিয়াকে বলেছিলেন “আমার দাদু বলতেন, ‘মানুষ আপন টাকা পর, যত পারিস মানুষ ধর’ (ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)। তাই আমি টাকা নয়, মানুষকে ভালবেসেছি সব সময়।” ইসলামে যেহেতু যখন খুশি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আরেকটা বিয়ে করার সুযোগ আছে, তাই হিল্লোল নিজের বেহেশ্‌ত নিশ্চিত করার পর তিন্নিকে কন্যাসহ তালাক দিয়ে আরেক মডেল নওশীনের পিছু নেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তিন্নির বোধোদয় হয়নি, কাণ্ডজ্ঞানহীন মা-বাবার আশ্রয়ে থাকার পরও তিন্নি পুনরায় এক মুসলিম বন্ধু আদনান হুদা সাদ-কে গোপনে বিয়ে করে। একইভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস ১০ এপ্রিল ২০১৭ মিডিয়াতে তার পুত্রসন্তান নিয়ে হাজির হয়ে বলেন ২০০৮ সালেই তিনি শাকিব খানকে গোপনে বিয়ে করেছেন। তার ধর্মান্তরিত নাম অপু ইসলাম খান। কিন্তু শাকিব এখন তাকে গ্রহণ না করে নায়িকা বুবলির পিছু নিয়েছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রন্টি দাশ তার পরিবারের মুখে চুনকালি মাখিয়ে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। বাপ্পা মজুমদারের মতো সুপারস্টার শিল্পী অভিনেত্রী চাঁদনীকে বিয়ে করতে ইসলাম গ্রহণ করে হলেন বাপ্পা আহমেদ। রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারের কন্যা এপা মজুমদার মুসলিম বিবাহ করেছেন। কমল দাশগুপ্তের সন্তানরাও মুসলিম। সেকুলার কবি নির্মলেন্দু গুণের স্ত্রী-কন্যা সবাই মুসলমান বিয়ে করেছে। এই রকম শিক্ষিত-ভদ্র-সাংস্কৃতিক কিন্তু বাস্তব ধর্মজ্ঞানশূন্য পরিবারের কন্যাদের ধর্মান্তরের হার বেশি। আবার বর্ণবিচারের জাঁতাকলে ব্রাহ্মণ কন্যাগণের ধর্মান্তর অনুপাত বেশি। এসব ঘটনায়। সমস্যা কোথায়? ‘এতে হিন্দু বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে জিহাদী বংশের সূত্রপাত হয়।’ কীভাবে? দেখুন তবে—

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারের কন্যা শর্মিলা ঠাকুর মুসলিম হয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খানকে বিয়ে করেন। স্বামীর মতো তার পুত্র বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানও একজন লাভজিহাদী। ১৯৯১ সালে সে বিয়ে করে হিন্দু অমৃতা সিং-কে। ১৩ বছরের সংসার করে দুই সন্তানসহ অমৃতাকে তালাক দেয় সে। একথা গোপন রেখে ইটালিয়ান মডেল রোজার সাথে সে প্রেম করে তিন বছর। এরপর ২০০৭ সাল থেকে নায়িকা কারিনা কাপুরের সাথে প্রেম করে এবং ২০১২ সালে ইসলামী মতে নিকাহ্ করে। হিন্দু কারিনা হয়ে যান কারিনা কাপুর খান। খান পরিবার তাদের ছেলের নাম রেখেছে ‘তৈমুর’। ইতিহাসে তৈমুর কে ছিল জানেন?—একজন হিন্দুনিধনকারী বর্বর মুসলিম শাসক। তৈমুর নিজেকে ইসলামের তলোয়ার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনী ‘মালফুজাত-ই-তৈমুরী’-তে লিখেছেন, “আমার হিন্দুস্থান জয়ের সঙ্কল্প অনড়-অটল।…আমি সঠিক নির্দেশের জন্য পবিত্র কোরানের শরণাপন্ন হলাম। তাতে বলা হয়েছে, ‘হে মোহাম্মদ! বিধর্মী ও অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।’ এই সময়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে এক অভিযানের প্রবল বাসনা আমার হৃদয়-মনকে আলোড়িত করে। কারণ আমি শুনেছি, জিহাদে কাফের হত্যা করলে ‘গাজী হওয়া যায় এবং নিহত হলে ‘শহীদ।” এরপর অন্যায় যুদ্ধে একের পর এক হিন্দুরাজ্য জয় করেন তৈমুর। তিনি রাজস্থানের হিন্দুরাজ্য ভাটনী ভস্মীভূত করে রাজপুত ও জাঠ সেনাদের হত্যা করে তাদের স্ত্রী-কন্যাদেরকে বন্দী করে নিয়ে তাঁর মুসলিম বাহিনীর যৌনদাসী করেন। এরপর তিনি যমুনার তীরে অতর্কিত আক্রমণ করেন ক্ষুদ্র রাজপুত বাহিনীর ওপর। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বীরদর্পে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেন হিন্দুসেনাগণ। মৃত্যুর আগে মুসলমানদের কাছ থেকে নিজেদের স্ত্রী-কন্যাদের সন্ত্রম রক্ষার্থে তাঁদেরকে আগুনে আত্মাহুতির ব্যবস্থা করে দেন তারা, যার নাম ‘সতীদাহ’। মুসলিমদের হারেমে হিন্দু নারীদের আজীবন যৌনদাসী হয়ে থাকা ও জেহাদী বাচ্চা জন্ম দেওয়ার গ্লানিকর জীবন থেকে মুক্তির জন্যই সতীদাহ প্রথার উদ্ভব হয়েছিল। এরপর দিল্লির অভিমুখে যাত্রার পূর্বে তৈমুর অসহায় যুদ্ধবন্দী লক্ষাধিক হিন্দুকে হত্যার নির্দেশ দেন। এত বিপুলসংখ্যক শৃঙ্খলিত যুদ্ধবন্দীকে নৃশংসভাবে হত্যার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এমন বর্বরতা গত এক হাজার বছর ধরে হিন্দুদের ওপর চালিয়েছে প্রায় প্রত্যেক মুসলিম সুলতান-বাদশা-নবাব।

তাই ধর্মান্তরিতা কারিনা কাপুরের ছেলের ‘তৈমুর’ নামকরণ হিন্দু জাতিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন যে, কোন একজন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলে হিন্দুর সংখ্যা শুধু কমে না, হিন্দুর শক্ৰসংখ্যাও বাড়ে। তাই অস্তিত্ব রক্ষার্থে যেকোন মূল্যে ধর্মান্তর প্রতিরোধ করতেই হবে।

ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন? দেখুন আল্লাহ্ কী বলছেন—“পুরুষ নারীর কর্তা।… স্ত্রীদের মধ্যে যাহাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর… তাহাদেরকে প্রহার কর।”[^1] “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।” [^2]—এই আয়াত থেকে নারী নিজেই আল্লাহর দৃষ্টিতে তার মর্যাদা ও অবস্থান খুঁজে নিক। “মানুষকে মোহগ্রস্ত করেছে নারীর মতো আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু।” [^3] অর্থাৎ নারী যে ‘ভোগ্যবস্তু’ কোরান তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে। কার ভোগ্যবস্তু? মানুষের। মানুষ কারা? পুরুষরাই মানুষ। আল্লাহর দৃষ্টিতে নারী কি তবে মানুষ নয়? হাদিসে এর উত্তরে নবীজি বলেছেন—“নিশ্চয় স্ত্রীলোক শয়তানের আকৃতিতে আগমন করে ও শয়তানের আকৃতিতে প্রত্যাবর্তন করে।” [^4] “স্ত্রীলোক শয়তানের ফাঁদ।” [^5] “নারী হলো গাধা ও কালো। কুকুরের সমতুল্য। কালো কুকুর একটা শয়তান।” [^6] পুরুষ যে কারণে তার স্ত্রীকে প্রহার করে, সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। [^7] এসব কারণে মুসলিম সমাজে নারী নির্যাতন অত্যধিক বেশি।

অপরদিকে হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ বেদ বলছে- “হে স্ত্রী! শ্বশুরের নিকট সম্রাজ্ঞী হও, শাশুড়ীর নিকট ম্রাজ্ঞী হও, ননদদের নিকট সম্রাজ্ঞী হও এবং দেবরদের নিকট সম্রাজ্ঞীর অধিকার প্রাপ্ত হও।” [^8] “পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যভিচার করবেন না। এই হলো নারীপুরুষের পরম ধর্ম।” [^9] “স্ত্রীলোককে রক্ষণরূপ ধর্ম সকল বর্ণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ কর্তব্য। তাই অন্ধ, পঙ্গু ও দুর্বল স্বামীরাও নিজ নিজ স্ত্রী-কন্যাকে যত্নপূর্বক রক্ষা করবেন।” [^10] যে গৃহে নারী সুখী নয়, সে গৃহে কোন দেবতা গমন করে না। মনুসংহিতার ৯/১২ শ্লোকে বলা হয়েছে, নারীকে ঘরে আটকে রাখা মানেই নিরাপত্তা নয়। বরং তাকে বাস্তব সমাজ, নিজধর্ম, সংস্কৃতি, ভাল-মন্দ ও আত্মরক্ষা বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে, যাতে বাহিরেও তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে, আর কুসঙ্গ যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। এরকম উন্নত ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু সমাজে মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত উন্নত। এখানে নারী নির্যাতন নেই বললেই চলে। স্বামী নিগৃহীতা কোন নারীকে তাই রাস্তায় দেখা যায় না। হিন্দু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় না। জেলখানায় কয়েদীদের মধ্যে হিন্দু আছে ২ শতাংশেরও কম (তাও অনেকে মিথ্যা মামলায়)। সারাদেশে মুসলিম এতিম শিশুর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, কিন্তু হিন্দু অনাথ শিশুর সংখ্যা ১ হাজারেরও কম। হিন্দুরা কখনো দেশদ্রোহী ও জঙ্গী হয় না। হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরাও তুলনামূলকভাবে বেশি মেধাবী। হিন্দুধর্মে নারী যতটা স্বাধীনতা ও মর্যাদা পায় তা বিশ্বের আর কোন ধর্ম ও সমাজে পায় না। হিন্দুনারী-পুরুষ একসাথে পূজা করতে পারে। স্ত্রী ছাড়া স্বামীর কোন পূজা-যজ্ঞ সম্পন্ন হতে পারে না, তাই স্ত্রীকে সহধর্মিণী ও অর্ধাঙ্গিনী বলা হয়। মুসলিম স্ত্রীদের এটা বলা যায় না। কারণ, মুসলিম নারী-পুরুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারে না। মন্দিরে নারী দেবী পূজিতা হন। মসজিদে-ঈদগাহে নারীদের প্রবেশই নিষেধ। হিন্দুনারী পৌরোহিত্য করতে পারে, কীৰ্ত্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে, মুসলিম নারী কখনো ইমাম হতে পারে না, আজান দিতে পারে না। নারীর নেতৃত্ব হিন্দুধর্মে ও সমাজে স্বীকৃত। ইসলামে নারীর নেতৃত্ব হারাম। বিশ্বের প্রাচীনতম ও হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদ রচয়িতা ঋষিদের মধ্যে ২৭ জন বিদুষী নারী ঋষি ছিলেন। বিশ্বের অন্য কোন ধর্মের গ্রন্থ রচনাতে নারীর কোন অবদান স্বীকার করাই হয়নি। হিন্দু বিবাহ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিবাহ। এটা একটা ব্রত, অবিচ্ছেদ্য, আজীবন সুখে-দুঃখে একসাথে থাকার সঙ্কল্প। কিন্তু মুসলিম বিয়ে/নিকা ‘অর্থের (দেনমোহর) বিনিময়ে সহবাস করার চুক্তি/কন্ট্রাক্ট” যা যেকোন সময় বাতিল (তালাক) করা যায়। ফলে, পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতায় মুসলিম বধূর নিরাপত্তা সর্বদাই ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত।

হিন্দুকন্যাদের বলছি, যদি কোন মুসলিম ছেলে তোমার প্রেমে খুব পাগল হয়, তবে তাকে পরীক্ষা করতে বলো—সে মাত্র ৬ মাস প্রতিদিন ১৬ মালা হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করুক। তারপর সে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করলে তবেই তুমি তাকে বিয়ে করবে। তোমার মা-বাবাকেও তুমি রাজি করাবে বলে জানাও। দেখবে, তার অনন্ত প্রেম হাওয়াই মিঠের মতো চুপসে গেছে। তার ভণ্ডামী ধরা পড়ে যাবে। অথচ তাকে ভালবেসে বিয়ে করতে হলে তোমাকে মা-বাবা, পরিবার, স্বজন, ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি সবকিছুই ত্যাগ করে আজীবন দাসী হয়ে থাকতে হবে। ভাবো। সিদ্ধান্ত তোমার।

ধর্ম ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই পত্রটি ফটোকপি করে আপনার পরিচিত সকল হিন্দুকে পড়ান। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ। জয় শ্রীরাম।

[^1]: কোরান ৪/৩৪

[^2]: কোরান ২/২২৩

[^3]: কোরান ৩/১৪

[^4]: ১৫, মোসলেম

[^5]: শোবল ঈমান, পৃ. ১৮৮

[^6]: ১০৩৩, মুসলিম শরীফ

[^7]: আবু দাউদ, ইবনে মাজা, পৃ. ১৩৪

[^8]: ঋগ্বেদ ১০/৮৫/৪৬

[^9]: মনুসংহিতা, ৯/১০১

[^10]: মনুসংহিতা, ৯/৬

Hits: 423

পশ্চিমবঙ্গে জামাত সাংসদ? পর্ব ১

পশ্চিমবঙ্গে জামাত সাংসদ? পর্ব ১

বইটি ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ সংগঠন থেকে প্রকাশিত। স্ক্যান করেছেন শ্রী অভিজিৎ মাহাতো। বইটি দুই পর্বে প্রকাশিত হবে হিন্দুত্ববুক্স ওয়েবসাইট থেকে। আজ প্রথম পর্ব।

একটি গোপন চিঠি

Most Confidential

TO

The Superintendent of Police,

D.I.B., South 24-Parganas.

Ref: Canning PS Case No. 84 dtd 19.02.13 u/s 394/302/307/153A IPC & 25/27 Arms Act.

Sir,

In wake of the incident took place near Nalia Khali under Canning PS relating to above noted case, myself along with other officers were directed to report to Ghutiary sharif OP on 20.02.13 by 06.00 hrs. Accordingly, in compliance to the direction, myself along with Inspr. Bhaskar Das and Inspr. Bichitra Bikash Roy reported our arrival at Ghutiary sheriff on 20.02.13 at 06.15 hrs. As I was posted as OC, Ghutiary sheriff OP in the year 1994, I had organized some social and cultural activities then resulting good relation with some respected people of both the communities was grown up. During stay on that date i.e. on 20.02.13 there, I had been to Dhoaghata, Naliakhali and other places for Law & Order duty. I also exchanged some informations regarding ghastly incident of violence took place unabated in different places of Naliakhali village committed by a group of unruly Muslim people. Some fanatical zealots indulge and took active part to do such nefarious activities resulting more than 100 huts/ buildings were burnt down and their property were looted. In course of conversation, I collected some informations and circumstances compelled me to bring to your notice for your kind perusal and necessary action, if considered and approved.

2. Informations also collected that one Kutubuddin of Jibantala, Hasibur of Ghutiary sheriff, Alauddin of Dhoaghata and others took active parts for committing such incident. Some of them have got a very good interlinked like spiders net with one AHAMED HOSSAIN IMRAN, former Genl. Secy. Of SIMI (Students Islamic Movement of India), of Park Circus. This organization has been banned by the Govt. of India. However, he is at present also a member of S.I.O. (Students Islamic Organisation). It is learnt that said Imran took very active part in sending huge unruly Muslim young people with bombs and other arms from Park Circus area who reached at Naliakhali in the morning and took active part of such violence resulting huge huts were burnt down and property looted.

3. Due to the instigation of said Ahamed Hossain Imran, huge muslim young people also had been there from different places i.e. Rajabazar, Metiabruz, Mograhat, Basanti and other places.

4. Ahamed Hossain Imran has since been collecting huge foreign money to reach their unreach by penetrating into many places of State and clandestinely ushered such sordid picture of gross violence.

This is for favour of your kind information.

Yours faithfully,

24/2/13

Inspector of Police,

DEB, South 24-Parganas.

দৈনিক স্টেটসম্যানের সংবাদ

দৈনিক স্টেটসম্যান ২১ জানুয়ারি ২০১৪ মঙ্গলবার

কেডি, ইমরানকে প্ৰার্থী করে কী বার্তা দিলেন মমতা?

কলম পত্রিকার সম্পাদক ইমরান নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। জামাত ইসলামি হিন্দের সঙ্গেও ইমরানের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। এহেন ইমরানকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা নিয়েও জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এইসব বিতর্কিত মানুষদের প্রার্থী করে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দিতে চাইছেন?

বিশেষ সূত্রে খবর, ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সিমি-র প্রতিষ্ঠা হয়, তখন সিমির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইমরান। এর আগে ইমরান মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি ছিলেন বলেও জানা গেছে। সিমি ও সর্বভারতীয় জামাত ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ সাধনেও ইমরান বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিশেষ সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৮১ সালে ১৯ নম্বর দরগা রোড পার্ক সার্কাসে কলম নামে এক মাসিক পত্রিকা শুরু করেন ইমরান। তারপর ১৯৯৩-৯৪ সাল নাগাদ কলম সাপ্তাহিকে পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে কলম চলে যায় ৪৫ নম্বর ইলিয়ট রোডে। অন্যদিকে ১৯ নম্বর দরগা রোডকে ব্যবহার করা হয় সিমির গেস্ট হাউস হিসাবে। আর সিমির সাংগঠনিক কার্যকলাপ চলে ২৭বি, লেনিন সরণি থেকে। আরও অভিযোগ, সিমির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্কেরও (আইডিবি)। এই ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার পূর্বাঞ্চলের একটি দায়িত্বেও ছিলেন ইমরান। এই ব্যাঙ্কের এমডি ছিলেন বাংলাদেশ জামাতের শীর্ষনেতা গোলাম আজমের ছেলে মামুন-আল-আজম। ইমরান মামুন-আল-আজমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন বলে অভিযোগ। আইডিবি থেকে যে অর্থ ইমরান পেতেন সেই টাকা মুসলিম সমাজের কোনও উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়নি বলেও বেশ কিছু মুসলিম সংগঠনের অভিযোগ। বাংলাদেশ জামাতের সঙ্গে ভারতের জামাতের যোগসূত্রেও ইমরানের বিশেষ ভূমিকা আছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে এনডিএ সরকারের আমলে যখন সিমিকে নিষিদ্ধ করা হয় তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এহেন ইমরানকে মমতা কেন প্রার্থী করলেন সেটাই এখন ভাবিয়ে তুলেছে রাজনৈতিক মহলকে।

নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ

নয়া দিগন্ত, ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

বাংলাদেশের সন্ত্রাসী মৌলবাদীদের আশ্ৰয় দেবেন না

মমতার প্রতি শেখ সেলিম

বাংলাদেশের সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তি পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে অভিযোগ করে তাদের কোনোভাবেই সহযোগিতা না করা, অবিলম্বে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিনিয়র সংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

সংসদে গতকাল সন্ধ্যায় পয়েন্ট অব অর্ডারে ফোর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অভিযোগ সংবলিত একটি খবর উদ্ধৃত করে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে শেখ সেলিম এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম পত্রিকায় প্রকাশিত একটি জনসভায় বিমান বসুর দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিমান বসু বলেছেন, বাংলাদেশে সাতক্ষীরায় যখন জামায়াত সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে তখন পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্য হাসান আহমদ তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এই হাসান আহমদ হচ্ছেন বাংলাদেশের জামায়াত সমৰ্থিত পত্রিকা নয়া দিগন্তর একজন প্রতিনিধি। অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। সেই সম্পর্কের ব্যাপারে যদি ফাটল ধরানো হয় এবং কেউ যদি ধরাতে চেষ্টা করে সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ সেলিম বলেন, ভারত একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, বাংলাদেশও একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ দিক দিয়ে আমাদের আদর্শগত মিল আছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্ৰীয় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করে মানুষের কাছে ভারত বিদ্বেষী একটি মনোভাব সৃষ্টি করার জন্য একতরফাভাবে তারা অপপ্রচার করেছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য আপ্ৰাণ চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি গঙ্গার পানি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।

জনস্বার্থ পত্রিকার সংবাদ

জনস্বাৰ্থ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ শনিবার

নিষিদ্ধ সিমি ও জামাত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেসের ইমরান এবার রাজ্যসভায়

অনিশ্চয় রায়

১৯৭৭ সালে জঙ্গি ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া বা সিমি জন্ম নেয়, পরে ভারত সরকার তা নিষিদ্ধ করেছে। সেই সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্দিরার জরুরি অবস্থা এবং সঞ্জয় গান্ধীর নাসবন্দি অভিযানের প্রেক্ষিতে তখন মৌলবাদী মুসলমান ছাত্রদের এই সংগঠন গড়ায় মদত দিয়েছিল পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ। কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান সিমি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পশ্চিমবাংলায় সিমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বা ‘আমির-ই-হলকা’। তিনি ‘ইসলামিক মিল্লাত’ এবং জেহাদ-এর সমর্থক, মিল্লি কাউন্সিল-এর অন্যতম কর্তা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মতে, ইমরানের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ আছে মুজাহিদিন গোষ্ঠীগুলির। কারও কারও মতে, তিনি ‘পেইড ফরেন এজেন্ট’। এর সপক্ষে তাঁদের কাছে যে প্রমাণ আছে, তা তাঁরা যথাযোগ্য জায়গাতেই দেবেন। তবে একজন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বলেছেন, ‘ইমরান নিজেকে তেহরান রেডিও-র সংবাদদাতা বলে পরিচয় দিতেন। হেজবোল্লাহ-র ইমরানে তেহরান রেডিও কেন কলকাতার মতো কম গুরুত্বের জায়গায় প্রতিনিধি রাখবে, তার ব্যাখ্যা নেই। তাছাড়া, পিআইবি বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও এমন তথ্য ছিল না।’ চার বছর সিমির নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৮১ সালে ১৯ দরগা রোড ঠিকানা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা ‘কলম’। বাংলায় নাম কলম হলেও তার ইংরাজি বানানে লেখা হয় ‘QALAM’, যার একটি অর্থ রণধ্বনি। পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হয় ১৯৯৩-৯৪ সাল নাগাদ, চলে আসে ৪৫ ইলিয়ট রোড ঠিকানায়। একটি দৈনিক পত্রিকায় প্ৰকাশ, সেই সময় দরগা রোডের বাড়িটি হয় সিমির কমিউন আর অফিস হয় লেনিন সরণির একটি বাড়ি। অসমের এআইডিইউএফ চেয়ারম্যান বদরুদ্দিন আজমলের ঘনিষ্ঠতার কারণে শুরুতেই কলমের প্রচার বেড়ে যায় অসমের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে। আলিগড়ের ছাত্র আহমেদ হাসান ইমরানের হঠাৎ একটি পত্রিকা প্রকাশ, তার বিপুল প্রসার, তাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অর্থ লগ্নি – সবই রহস্যের। কেন, কারা লগ্নিকারী, তদন্ত হলেই তার প্রকাশ সম্ভব।

কিন্তু বাংলাদেশের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন ‘জামাত-ই-ইসলামি’র সঙ্গে তাঁর বিশেষ যোগাযোগের কথা অজানা নয়। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আসামী ঘোষিত জামাত নেতা গোলাম আজম, সেই দেশের সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ড চায়, তাঁর ছেলে মামুন-আল-আজমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন ইমরান। মামুন ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। একটি সূত্র জানাচ্ছে, মামুন কয়েকবার কলমের ইলিয়ট রোডের অফিসেও এসেছেন। তিনি ইমরানকে ইসলামিক ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই দায়িত্ব আসলে তাঁর মাধ্যমে এপার বাংলায় ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির হাতে অর্থের যোগান অক্ষুণ্ণ রাখা। সেই কারণেই, মুসলিম সমাজের উন্নয়নের নামে আইডিবি-র দেওয়া টাকা সম্প্রদায়ের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়নি, গিয়েছে জঙ্গিদের হাতে। জামাতের সঙ্গে এবাংলার যে যে ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তার মধ্যে ইমরান ছাড়াও আছেন কলমের সঙ্গে জড়িত জনৈক আলাউদ্দিন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের নেতা কামারুজ্জামান।

এহেন ইমরানকে দেখা গিয়েছে, তসলিমা নাসরিনের লজ্জা বা উতল হাওয়া উপন্যাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে প্রতিবাদে সরব হতে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করে তসলিমার বই নিষিদ্ধ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। আরও কয়েকজনের সঙ্গে আদালতে মামলাও করেছিলেন। এবং তসলিমাকে কলকাতাছাড়া করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যালঘু অংশের সমাজবিরোধীদের দিয়ে বাম সরকারের আমলে ঘটানো দাঙ্গা পরিস্থিতির পিছনেও তাঁর মদত ছিল বলে প্রকাশ। তসলিমার লেখা কাহিনি-নির্ভর ধারাবাহিক ‘দুঃসহবাস’ বন্ধ করার পিছনেও তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে শাহবাগ আন্দোলন ছিল প্রকাশ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে। ধর্মনিরপেক্ষতার শপথ নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার কিন্তু কলকাতায় শাহবাগের সমর্থনে কোনও মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। বাংলাদেশ দূতাবাসে সহমর্মিতা জানানোর জন্যও বুদ্ধিজীবীরা যেতে চাইলে, তাঁদের আটকানো হয়েছে। কিন্তু কামারুজ্জামান-আলাউদ্দিনরা সাংবাদিক সম্মেলন করে এক গুচ্ছ মুসলিম সংগঠনের নামে যে মিছিল করেন, সেখান থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ‘বাংলাদেশের জামাত-এ-ইসলামি আমাদের ভ্রাতৃসম সংগঠন।’ সেই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়ায় সাংবাদিকরা ক্ষোভ জানানোয় প্রেস ক্লাবের ভেতরেই সাংবাদিকদের আক্রমণের চেষ্টাও হয়। এ সব সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জামাতপন্থী ইমরান-কামারুজ্জামানদের সঙ্গেই থেকেছে। পাঠকদের মনে থাকবে যে, গ্রন্থাগারে কোন কোন পত্রিকা কেনা যাবে, তা নিয়ে লাইব্রেরি বিভাগ একটি তালিকা প্ৰকাশ করেছিল, যা পরে বাতিল হয়ে গেছে। দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত হওয়ার আগেই কলম সেই তালিকায় স্থান পেয়েছিল। চিটফান্ড কর্তা সুদীপ্ত সেনের মালিকানায় কলম চলে গেলেও দেখা গেল কলমের মালিকানা ইমরানেরই রয়ে গেল এবং দলীয় স্বার্থে অন্য একটি কলম পত্রিকা প্রকাশিত হল। সুদীপ্ত সেনের সংস্থা বিরাট ধাক্কা খেলেও ইমরানের কলম ফের আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রকাশিত হল।

অভিযোগ, এখনও ইমরানের মাধ্যমেই বিএনপি-জামাতের হাত হয়ে টাকা ঢুকছে। এ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। সেই টাকা সাদা না কালো, তা জানেন গোয়েন্দা কর্তারা, কিন্তু তা নিয়ে মন্তব্য করার অনুমতি তাঁদের নেই। শেখ হাসিনা এবং মনমোহন-সোনিয়া সরকার চাওয়া সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তিতে সায় দেয়নি রাজ্য সরকার ও তার প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে দারুণ উল্লসিত বাংলাদেশের জামাত-বিএনপি। শোনা যাচ্ছে, এই জোট তাই তাদের লোককে সংসদে পাঠানোর অনুরোধ জানায়। সে জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তা দেবে, এমন কথাও হয়। ফলে, তৃণমূলও তাকে চতুর্থ প্ৰার্থী রেখে বিপুল অঙ্কের বাজেট নিয়েই বিধায়ক কেনাবেচায় নামে। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যাতেই মুকুল রায় জানিয়ে দেন যে, ইমরানের জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কোন কোন ঘোড়া তৃণমূলের আস্তাবলে ঢুকছে, তাও প্রকাশ হয়ে যায়।

Hits: 193

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।’- শ্রীকৃষ্ণ

প্রতিটি হিন্দুকন্যাই ধর্মান্তরের জন্য টার্গেট হয়ে থাকে। এমনকি সহজসরল মেধাবী হিন্দু ছেলেরাও টার্গেট হয়ে থাকে। আপনি সতর্ক আছেন তো? আপনার পরিবার-স্বজন সবাই সুরক্ষিত তো?

“পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। …কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারাজীবন পোড়ায়।’ কথাটা বলেছেন কবিগুরু শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই প্রেম বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রতিটি মেয়ের জন্যই জরুরী। বয়ঃসন্ধির পর থেকে প্রতিটি মেয়েই প্রেম করতে চায়। কলেজে ওঠার পর মেয়েরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াবে, এটাই স্বাভাবিক। যৌবনে শরীরের হরমোন মা-বাবার নিষেধাজ্ঞা মানে না। তবে মেয়ে যেন বিপথে পা না বাড়ায়, সেদিকে সতর্ক হওয়াটাই মা-বাবার কর্তব্য। কোন হিন্দু মেয়ের পক্ষে কোন মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম করা কখনই উচিত নয়, কারণ তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে। তার চেয়ে বরং যেকোন বর্ণের হিন্দু ছেলে শতগুণে উত্তম। কিন্তু কেন?

অতীতে জিহাদী মুসলমানরা এক হাতে তলোয়ার, আরেক হাতে কোরান নিয়ে অমুসলিমদের নির্দেশ দিত, হয় ইসলাম গ্রহণ কর, নয়তো মৃত্যু। এভাবে গত ১৩শ বছরে লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। এযুগে আর এত সহজে হত্যা করা যায় না। তাই কৌশল বদলেছে। বর্তমানে ভারতবর্ষে ইসলাম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার হিন্দু মেয়ে বিয়ে ও বেশি সন্তান জন্মদান। ছলে-বলে-কৌশলে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা তাদের উদ্দেশ্য। অতীতে রাজ্যহারা পরাধীন হিন্দুগণ অস্তিত্ব, সম্ভ্রম ও জীবন রক্ষার্থে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হতো অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, দেশান্তর বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত তবু ইসলাম গ্রহণ করত না। এই বীর, সাহসী, ধর্মপ্রাণ হিন্দুদেরই বংশধর আজকের বাংলাদেশের হিন্দুরা। কিন্তু অবাক হতে হয়, হিন্দু ছেলেমেয়েরা নিজেদের ইতিহাস, ধর্ম বা ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট না জেনেই স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু কী সেই আকর্ষণ?

“আমাকে কেউ অপহরণ করেনি, আমি স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছি। স্বেচ্ছায় হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছি। আমি স্বামীর সাথেই থাকতে চাই।” বাংলাদেশে প্রতি বছর শতশত হিন্দু কন্যা প্রেমের টানে আদালতে, সালিশে, পুলিশের কাছে বা সাংবাদিকের কাছে এই কথাটাই বলে। ফলে শতশত হিন্দু মা-বাবা বুক চাপড়ে কাঁদে। শতশত সংসারের সুখ-শান্তি বিলীন হয়, বংশ-মর্যাদা, সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। ওই মা-বাবাকে বাকিটা জীবন সমাজে মাথা নীচু করে চলতে হয়। একটি সন্তান মরে যাওয়ার চেয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়া শতগুণে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। সন্তান মারা গেলে দুই-চার মাস পর থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু সন্তান ধর্মান্তরিত হলে এই কষ্ট, কলঙ্ক, লজ্জা ও অপমান বয়ে বেড়াতে হয় সারাটা জীবন। ভাবছেন এসব ঘটনার জন্য সন্তান দায়ী? না, প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মান্তরের জন্য মেয়েরা দায়ী নয়। মেয়েরা ঘরে থাকার কারণে সমাজ ও বাস্তবতা কম বোঝে। এছাড়া তারা পরিবারে ধর্মশিক্ষাও পায় না। তাই ধর্মান্তরের জন্য প্রায় আশি ভাগ দায়ী মা-বাবারা। আর বিশ ভাগ দায়ী হিন্দুদের দুর্বল সমাজব্যবস্থা। যাঁদের সন্তান ধর্মান্তরিত হয়, তাঁরা মূলত নিজেদেরই কর্মফল ভোগ করেন। প্রকৃতপক্ষে একটি-দুটি নয়, হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের সুখের সংসার তছনছ হয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা প্রেমের কারণে। কারণ এই প্রেমের পরিণতিতে হিন্দু মেয়েটিকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করতে হয়, মা-বাবা-আত্মীয়-স্বজন সবাইকে চিরদিনের জন্য ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়, স্বাধীন দেবীতুল্য হিন্দু নারী থেকে পর্দাবন্দী মুসলিম যৌনদাসী নারীতে রূপান্তরিত হতে হয়, নির্মল সাত্ত্বিক আহার ত্যাগ করে ঘৃণ্য গোমাংস ভক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ প্রেম অপেক্ষা ধর্মান্তর করাটাই মুসলিম প্রেমিকের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই প্রেমের মাধ্যমে অমুসলিম নারীকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার যে নীরব আন্দোলন বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে এরই নাম ‘লাভ জিহাদ’। তাই প্রেম করার আগে সতর্ক হোন। নিজের পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের লাভ জিহাদ বিষয়ে সতর্ক করুন।

বর্তমানে ছেলেমেয়েদের যত প্রেমের ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগ ঘটে মোবাইলের মাধ্যমে। হিন্দু মেয়ের মুসলিম বন্ধু/বান্ধবীরা তাদের মুসলিম বন্ধুদেরকে হিন্দু মেয়ের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে বা পরিচয় করিয়ে দেয় এবং প্রেম করার জন্য ফুসলানি দেয়। ফেসবুকের মাধ্যমেও পরিচয় ও প্রেম হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রচুর। হিন্দু সেজেও অনেক মুসলিম যুবককে হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম করে প্রতারণা করতে দেখা গেছে। প্রাইভেট শিক্ষক যদি মুসলিম যুবক হয় তবে তো পোয়া বারো, এ তো শিয়ালের কাছে মুরগিকে পড়তে দেওয়া। কলেজে ক্লাসনোট সরবরাহ, ক্লাসে সিট ধরে রাখা, শপিঙে সাথে যাওয়া, মোবাইলে/ফেসবুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, মানসিক সাপোর্ট দেওয়া, হিন্দুধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, দুচ্ছাই করার পরও হিন্দু মেয়ের পেছনে লেগেই থাকা—এসবই হলো মেয়েকে মানসিকভাবে দুর্বল করে প্রেমের ফাঁদে ফেলার কৌশল। এর ফলে মুসলিম যুবকের ওপর মানসিক ও বাহ্যিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে হিন্দু মেয়েটি। ফাঁদে পড়া মেয়েরা গোপনে, এমনকি মা-বাবার সামনেও মোবাইলে মেসেজিং করে কথা চালাতে থাকে। হিন্দু বন্ধুদের এড়িয়ে চলে। তার জন্য মা-বাবা ও বন্ধুদের কাছে যেকোন প্রকার মিথ্যা কথা বলতেও দ্বিধা করে না; স্রেফ বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু যে ছেলে-মেয়ে সর্বদা দুজনে ঘোরে তারা কখনো স্রেফ বন্ধু থাকতে পারে না। ওরা দ্রুত শরীর স্পর্শ করে, সম্পর্ক গভীর করতে তৎপর থাকে। পরিবারের সাথে থাকা মেয়েদেরকে মুসলিম যুবকরা প্রায়শ সস্তা মোবাইল সেট গিফ্ট করে। মেয়ে তা লুকিয়ে রেখে সময়মতো কথা বলে। ওদিকে মাঝেমধ্যে ছেলেটি হিন্দুধর্ম বিষয়ে টুকটাক প্রশ্ন করে যার উত্তর মেয়ের কাছে থাকে না। ইসলামের সরলতা ও মহত্ত্ব বিষয়ে বলা শুরু করে। এমনকি বশীকরণ মন্ত্র, তন্ত্র বা খাদ্যে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো এসবের প্রয়োগও চলে। এরপর হয় ব্রেইনওয়াশ, ধর্মান্তর ও বিয়ে। এমনকি ধর্মের বোন অথবা মা ডেকেও গোপন অভিসারে হিন্দুকন্যা/গৃহবধূকে নিয়ে চম্পট দেওয়ার রেকর্ড আছে। ওরা জানে, একবার পবিত্র হিন্দু মেয়েটার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারলে সে তার জন্য পাগল হয়ে যাবে, সব ছেড়ে তার কাছে ছুটে আসতে বাধ্য হবে। রাজসিক খাদ্যাভ্যাস এবং খৎনা করার কারণে মুসলিম পুরুষদের যৌনাকাঙ্ক্ষা সর্বদাই তীব্র থাকে। তাই দ্রুত শারীরিক সম্পর্ক করতে ওরা খুবই তৎপর। অথচ ঈশ্বরের সৃষ্টিকে বিকৃত করে পুরুষাঙ্গের অগ্রচর্ম কেটে ফেলা (খৎনা) প্রকৃতপক্ষে যৌনাঙ্গ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বৈজ্ঞানিক বিচারে খুবই ক্ষতিকর। ওদের অন্ধবিশ্বাস, একটা হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তর করতে পারলে মুসলিম যুবকটির আজীবনের সব পাপ মাফ হয়ে যাবে, জান্নাতুল ফেরদৌস নামক কাল্পনিক বেহেশ্‌ত নিশ্চিত হয়ে যাবে। অতএব, প্রেমের মাধ্যমে যদি বেহেশ্‌ত পাওয়া যায়, সেইসাথে সতী, রূপবতী, গুণবতী যুবতীও পাওয়া যায়, তবে এজন্য তারা মরিয়া তো হবেই। এই লাভ জিহাদে যারা সহযোগিতা করবে তারাও ছোয়াবের অংশীদার হবে। তাই সকল মুসলমানই একজন লাভ জিহাদীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে।

এ বিষয়ে মেয়েটির মা-বাবাকে জানালেও অনেকসময় তাঁরা তা পাত্তা দেন না, ভাবেন তাঁর মেয়ের মতো লক্ষ্মী মেয়ে হয়ই না। দুষ্ট লোকেরা রটাচ্ছে। মনে রাখবেন, একাদশী পালন বা পূজা-সন্ধ্যা করার সাথে প্রেম ও ধর্মান্তরের কোন সম্পর্ক নেই। অনেক ইস্কন-ভক্ত মেয়েও মুসলিম বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়েছে। আগেরদিন সন্ধ্যাপূজা করে পরদিন মুসলিম ছেলের সাথে ভেগেছে—এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে। এরপর যখন ঘটনা প্রকাশিত হয়ে পড়ে তখন হাজার চেষ্টাতেও মেয়েকে আর আটকানো যায় না। মেয়েটি গৃহত্যাগী হয়ে বিয়ে করে। তারপর? দেহসুখ ও আবেগনির্ভর প্রেম বছর ঘুরতেই দরজা দিয়ে পালায়। মানসিক দ্বন্দ্ব তো মাস দুয়েকের মধ্যেই শুরু হয়ে যায়। ভিন্ন সংস্কৃতি, জাতি, ধর্ম, রীতি-নীতি, মানসিকতা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার সাথে মানিয়ে চলা দুঃসহ হয়ে পড়ে। কিন্তু তখন মেয়েটির আর পেছনে ফেরার সুযোগ থাকে না। তার মা-বাবা, আত্মীয়, সমাজ তাকে ত্যাজ্য করে (এমনটা করবেন না)। বিপদের সময় পায়ের নিচে নির্ভরতার মাটি থাকে না। যার পরিণতি ভয়ঙ্কর; যেমন- ১। ৯৯ শতাংশ হিন্দু মেয়ে মুসলিম গৃহে সেবাদাসীর মতো মুখ বুজে যন্ত্রণাময় অভিশপ্ত জীবন যাপন করে। তার ওপর হওয়া কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না, এমনকি পরিবার/আত্মীয়/বন্ধু মহলের পুরুষ কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হতে হয় তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। কিন্তু হিন্দু গৃহবধূ নিরুপায় থাকে। প্রতিবাদ করলেই তালাক বা নির্যাতন। তাই হতাশা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার দৃষ্টান্ত আছে শতশত। ২। ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করে কিছুকাল প্রেমিকের শয্যাসঙ্গী থেকে দুয়েকটি বাচ্চাসহ তালাকপ্রাপ্ত হতে হয়। তারপর সব হারিয়ে তার গন্তব্য হয় সমাজের অন্ধগলিতে। ৩। ব্রেইনওয়াশের শিকার ধর্মান্তরিত হিন্দুই কালাপাহাড়ের মতো ভয়ঙ্কর হিন্দুবিদ্বেষী ও উগ্র ইসলামপন্থী হয়ে ওঠে। তারাই জঙ্গী হচ্ছে, ইসলামের প্রচারক হচ্ছে, অন্য হিন্দুদেরকে ধর্মান্তরিত হতে/করতে ব্রেইনওয়াশ দিচ্ছে। ধর্মান্তরিত অনেক হিন্দু যুবক বাংলাদেশেও জঙ্গী হয়েছে। আর মেয়েদের দায়িত্ব থাকে সুইসাইড স্কোয়াড ও সেক্সজিহাদ করা। সেক্সজিহাদী যুবতী নারীর দায়িত্ব হলো ইসলামপন্থী জিহাদী পুরুষকে দেহসম্ভোগ করিয়ে মনোরঞ্জন ও চাঙ্গা করা। ৪। কিছুকিছু ক্ষেত্রে হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত ও বিয়ে করে কিছুকাল ভোগ করে পতিতালয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দৌলতদিয়া, টাঙ্গাইল, ঢাকাসহ বাংলাদেশের পতিতালয়গুলোতে এরূপ নিবন্ধিত পতিতার সংখ্যা ৯ শতাধিক। হিন্দু যুবতী বেশ্যার রেট বেশি। এছাড়া দিল্লী, মুম্বাই ও আরবে পাচার হয় কত সংখ্যক হিন্দু মেয়ে-তার হিসেব নেই।

মা-বাবা ও হিন্দুহিতৈষীগণ ভাবছেন তাহলে উপায় কী? সমাধান বলছি। নিজেদের সম্মান, ধর্ম ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এগুলো মেনে চলুন।

  • ১। ভ্রান্ত বর্ণবাদ-জাতিভেদ ত্যাগ করুন। গীতার ৪/১৩ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট বলেছেন, গুণ-কর্ম অনুযায়ী বর্ণবিচার, জন্মানুসারে নয়। গুণ ও কর্ম অনুসারে যেকোন হিন্দু ছেলেমেয়ের যোগ্যতা মূল্যায়ন করুন, জন্ম অনুসারে নয়। আপনি কি ভগবানের বিরুদ্ধাচরণ করবেন?
  • ২। দুষ্টের বিনাশ, সাধুদের সুরক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপন-ভগবানের এই মহৎ কর্মে সর্বদা সংযুক্ত থাকুন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও ধর্মসংস্থাপনের জন্য সকল হিন্দু দেব-দেবী অস্ত্রসজ্জিত। এ থেকে আপনি কী শিক্ষা পান? দেবতার মূর্তি এসে কখনো আপনাকে উদ্ধার করেনি, করবেও না। আপনার হৃদয়স্থ দেবতাকে জাগ্রত করুন। আপনার গৃহে যদি আত্মরক্ষার জন্য অন্তত দেশী অস্ত্রও না রাখেন তবে আপনার মতো কাপুরুষ ভক্তের প্রতি অস্ত্রধারী দেবতা কি খুশী হবেন? হরিনামেই যদি সব সমাধান হতো তবে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধ না করে জপ-কীৰ্ত্তন-পূজা করতে বলতেন। ‘তস্মাৎ সর্বেষু কালেষু মামনুস্মর যুধ্য চ’—সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করো এবং ধর্মযুদ্ধ করো।’—এই হলো গীতার মূল কথা। গীতার বার্তা বুঝতে পারেনি বলেই শতভাগ হিন্দুদের দেশে আজ হিন্দুরাই সংখ্যালঘু হয়ে মার খাচ্ছে, পালাচ্ছে।
  • ৩। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের নির্দেশ—সঙ্ঘশক্তি কলৌযুগে। কলিযুগে সঙ্ঘই শক্তি। মহাপ্রভু নিজেই সহস্র ভক্তমণ্ডলী নিয়ে হিন্দুবিদ্বেষী অত্যাচারী কাজীর ভবনে হামলা করে হিন্দু সঙ্ঘশক্তির বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাই হিন্দুদেরকে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে এবং হিন্দু সঙ্ঘগুলোকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে হবে। সম্প্রদায়-মত-বর্ণ নির্বিশেষে একজন হিন্দুর সর্বোচ্চ পরিচয় সে ‘হিন্দু’। হিন্দু ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করুন। নামযজ্ঞের সংখ্যা কমিয়ে ধর্মসভা, ধর্মালোচনা, হিন্দু সম্মেলন করুন। চিন্তা-ভাবনা করে ধর্মানুষ্ঠান করুন যাতে জাতিগঠন এবং ধর্মপ্রতিষ্ঠা হয়।
  • ৪। হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠানে, মন্দিরে বা বাড়ির ভেতর অহিন্দুদের আমন্ত্রণ জানানো বন্ধ করুন। হিন্দু মেয়ে-বউদের দেখিয়ে দেওয়া, পরিচয় করে দেওয়া, টার্গেট বানানো, বউদের পেট-পিঠ দেখানো শাড়ি পরিয়ে শরীর দেখানো, উৎসবগুলোতে মেলামেশার সুযোগ তো হিন্দুরাই করে দেয়, তাই না? এই কাজগুলো তারা কি কখনো করে? সতর্ক হয়ে বন্ধ করুন এসব। মন্দিরে অপসংস্কৃতির নাচ-গান বন্ধ করুন।
  • ৫। পূজা এবং নামযজ্ঞের বাজেট কমিয়ে সেই টাকা দিয়ে দরিদ্র হিন্দু শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিন, দুঃস্থের পাশে দাঁড়ান। হিন্দুদের লক্ষ লক্ষ টাকা অস্থায়ী প্যান্ডেল, গেট, সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং-এ অপব্যয় না করে স্থায়ী মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়ন ও সংস্কারে কাজে লাগান। মন্দিরভিত্তিক ‘ধর্মসেবা ফান্ড’ গঠন করুন।
  • ৬। যতগুলো সন্তানকে ডাল-ভাত খাওয়ানো ও পড়ানোর সামর্থ্য ভগবান আপনাকে দিয়েছেন ততগুলোই সন্তান নিন। ‘ভ্রূণহত্যা মহাপাপ।’ ‘তিনটি সন্তানের কম নয়, বেশি হলে ভাল হয়।’ দূরদর্শী হোন, আপনার পৈত্রিক ভিটেমাটি ও সম্পত্তি রক্ষা করা আপনার পবিত্র কর্তব্য। এ যেন অসুরদের ভোগে চলে না যায়।
  • ৭। কাণ্ডজ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক হিন্দুঘরে সনাতন ধর্ম ও ইসলাম উভয় সম্পর্কেই তুলনামূলক আলোচনা করুন। যেমনটা ওরা করে। ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ সবাইকে জানতে ও জানাতে হবে। দুঃখের বিষয়, বাস্তবে কোন ধর্ম সম্পর্কেই হিন্দুরা সঠিক জ্ঞান রাখে না। রাধা যে কৃষ্ণের মামী বা স্ত্রী নয় এবং শিবলিঙ্গ যে শিবের যৌনাঙ্গ নয় —এ কথা কতজন হিন্দু জানে? আবার অন্য ধর্ম সম্পর্কে যা জানে তাও ভুল জানে। সকল ধর্মই সত্য ও সুন্দর, সকল ধর্মই মানবতার কথা বলে, যে আল্লাহ সেই ভগবান, রাম রহিম সমান, সবার উপরে মানুষ সত্য, যত মত তত পথ ইত্যাদি মুখরোচক মিথ্যা কথাগুলো শুধুমাত্র হিন্দুরাই বিশ্বাস করে। খ্রীস্টান, মুসলমান-কেউই এসব মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে না। তারা নিজনিজ ধর্মকেই সত্য ও শ্রেষ্ঠ বলে বিশ্বাস করে। হিন্দুরা ভণ্ড/মূর্খ গুরুদের অনুসারী হয়ে এসব ফালতু কথা বলে বা ভুল বোঝে। অনেকে বলেন, ইসলাম ভাল, মুসলমানরা খারাপ। কিন্তু বাস্তব সত্যটা হলো, ইসলামের চেয়ে মুসলমানরাই বরং ভাল। মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেটকে পর্যবেক্ষণ করলেই এটা বুঝবেন। ইসলাম মতে মানুষ দু’রকমের—মুসলমান এবং অমুসলমান (কাফের)। কোরান মতে, একজন মুসলমানের পক্ষে সব থেকে পুণ্যের কাজ হল জিহাদ করা, অর্থাৎ ইসলাম কায়েম করা, না মানলে কাফের ও মুশরিকদের হত্যা করা। তাই কোরানের নির্দেশ হল—কাফেরদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা কর, তাদের গর্দানের ওপর আঘাত কর এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়, তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দাও, তাদের সর্ব লুট কর, তাদের মহিলাদের ধর্ষণ কর, তাদের শিশুদের আছাড় দিয়ে মেরে ফেল ইত্যাদি। বিশ্বাস না হলে পড়ে দেখুন কোরানের ৪/৩, ৭৪, ৭৬, ৯৪-৯৬, ১০১; ৮/১২-৪০, ৪১, ৫৫-৭৫; ৯/৫, ১৪, ২৮, ২৯, ৩৩, ৬৮, ৭২, ৭৩, ১১১, ১১৩, ১২৩; ১৪/১৬-১৮; ২২/১৯, ২৩, ৭৮; ৪৭/১-১৫; ৪৮/২৮, ২৯; ৫৫/৪১-৭৮; ৫৬/১২-১৯ এই আয়াতগুলো। অতএব, সাধু সাবধান। চ্যালা মাছ যেমন কাদার মধ্যে থাকে কিন্তু গায়ে কাদা লাগে না, তেমনি হিন্দুদেরকেও সবার সাথেই মিলেমিশে থাকতে হবে, কিন্তু গায়ে কাদা লাগানো যাবে না, যেমন অন্যরা লাগায় না।

লেখক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক

(পরের পর্বে সমাপ্য)

Hits: 473