জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,

পরাণ সঁপিবে বিধবা-বালা।

জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,

জুড়াবে এখনি প্রাণের জ্বালা॥

শোন্‌ রে যবন!– শোন্‌ রে তোরা,

যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে,

সাক্ষী র’লেন দেবতা তার

এর প্রতিফল ভুগিতে হবে॥

ওই যে সবাই পশিল চিতায়,

একে একে একে অনলশিখায়,

আমরাও আয় আছি যে কজন,

পৃথিবীর কাছে বিদায় লই।

সতীত্ব রাখিব করি প্রাণপণ,

চিতানলে আজ সঁপিব জীবন–

ওই যবনের শোন্‌ কোলাহল,

আয় লো চিতায় আয় লো সই!

জ্বল্‌ জ্বল্‌ চিতা! দ্বিগুণ, দ্বিগুণ,

অনলে আহুতি দিব এ প্রাণ।

জ্বলুক্‌ জ্বলুক্‌ চিতার আগুন,

পশিব চিতায় রাখিতে মান।

দেখ্‌ রে যবন! দেখ্‌ রে তোরা!

কেমনে এড়াই কলঙ্ক-ফাঁসি;

জ্বলন্ত অনলে হইব ছাই,

তবু না হইব তোদের দাসী॥

আয় আয় বোন! আয় সখি আয়!

জ্বলন্ত অনলে সঁপিবারে কায়,

সতীত্ব লুকাতে জ্বলন্ত চিতায়,

জ্বলন্ত চিতায় সঁপিতে প্রাণ!

দেখ্‌ রে জগৎ, মেলিয়ে নয়ন,

দেখ্‌ রে চন্দ্রমা দেখ্‌ রে গগন!

স্বর্গ হতে সব দেখ্‌ দেবগণ,

জলদ-অক্ষরে রাখ্‌ গো লিখে।

স্পর্ধিত যবন, তোরাও দেখ্‌ রে,

সতীত্ব-রতন, করিতে রক্ষণ,

রাজপুত সতী আজিকে কেমন,

সঁপিছে পরান অনল-শিখে॥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নভেম্বর,  ১৮৭৫

Hits: 383

শিবাজি-উৎসব

শিবাজি-উৎসব

কোন্‌ দূর শতাব্দের কোন্‌-এক অখ্যাত দিবসে

                  নাহি জানি আজি

     মারাঠার কোন্‌ শৈলে অরণ্যের অন্ধকারে ব’সে,

                  হে রাজা শিবাজি,

     তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তড়িৎপ্রভাবৎ

                  এসেছিল নামি–

     “একধর্মরাজ্যপাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত

                  বেঁধে দিব আমি।’

     সেদিন এ বঙ্গদেশ উচ্চকিত জাগে নি স্বপনে,

                  পায় নি সংবাদ–

     বাহিরে আসে নি ছুটে, উঠে নাই তাহার প্রাঙ্গণে

                  শুভ শঙ্খনাদ–

     শান্তমুখে বিছাইয়া আপনার কোমলনির্মল

                  শ্যামল উত্তরী

     তন্দ্রাতুর সন্ধ্যাকালে শত পল্লিসন্তানের দল

                  ছিল বক্ষে করি।

     তার পরে একদিন মারাঠার প্রান্তর হইতে

                  তব বজ্রশিখা

     আঁকি দিল দিগ্‌দিগন্তে যুগান্তের বিদ্যুদ্‌বহ্নিতে

                  মহামন্ত্রলিখা।

     মোগল-উষ্ণীষশীর্ষ প্রস্ফুরিল প্রলয়প্রদোষে

                  পক্কপত্র যথা–

     সেদিনও শোনে নি বঙ্গ মারাঠার সে বজ্রনির্ঘোষে

                  কী ছিল বারতা।

     তার পরে শূন্য হল ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ নিবিড় নিশীথে

                  দিল্লিরাজশালা–

     একে একে কক্ষে কক্ষে অন্ধকারে লাগিল মিশিতে

                  দীপালোকমালা।

     শবলুব্ধ গৃধ্রদের ঊর্ধ্বস্বর বীভৎস চীৎকারে

                  মোগলমহিমা

     রচিল শ্মশানশয্যা–মুষ্টিমেয় ভস্মরেখাকারে

                  হল তার সীমা।

     সেদিন এ বঙ্গপ্রান্তে পণ্যবিপণীর এক ধারে

                  নিঃশব্দচরণ

     আনিল বণিকলক্ষ্মী সুরঙ্গপথের অন্ধকারে

                  রাজসিংহাসন।

     বঙ্গ তারে আপনার গঙ্গোদকে অভিষিক্ত করি

                  নিল চুপে চুপে–

     বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী

                  রাজদণ্ডরূপে।

     সেদিন কোথায় তুমি হে ভাবুক, হে বীর মারাঠি,

                  কোথা তব নাম!

     গৈরিক পতাকা তব কোথায় ধুলায় হল মাটি–

                  তুচ্ছ পরিণাম!

     বিদেশীর ইতিবৃত্ত দস্যু বলি করে পরিহাস

                  অট্টহাস্যরবে–

     তব পুণ্য চেষ্টা যত তস্করের নিষ্ফল প্রয়াস,

                  এই জানে সবে।

    অয়ি ইতিবৃত্তকথা, ক্ষান্ত করো মুখর ভাষণ।

                  ওগো মিথ্যাময়ী,

    তোমার লিখন-‘পরে বিধাতার অব্যর্থ লিখন

                  হবে আজি জয়ী।

    যাহা মরিবার নহে তাহারে কেমনে চাপা দিবে

                  তব ব্যঙ্গবাণী?

    যে তপস্যা সত্য তারে কেহ বাধা দিবে না ত্রিদিবে

                  নিশ্চয় সে জানি।

    হে রাজতপস্বী বীর, তোমার সে উদার ভাবনা

                  বিধির ভাণ্ডারে

    সঞ্চিত হইয়া গেছে, কাল কভু তার এক কণা

                  পারে হরিবারে?

    তোমার সে প্রাণোৎসর্গ, স্বদেশলক্ষ্মীর পূজাঘরে

                  সে সত্যসাধন,

    কে জানিত, হয়ে গেছে চিরযুগযুগান্তর-তরে

                  ভারতের ধন।

    অখ্যাত অজ্ঞাত রহি দীর্ঘকাল, হে রাজবৈরাগী,

                  গিরিদরীতলে

    বর্ষার নির্ঝর যথা শৈল বিদারিয়া উঠে জাগি

                  পরিপূর্ণ বলে,

    সেইমত বাহিরিলে– বিশ্বলোক ভাবিল বিস্ময়ে,

                  যাহার পতাকা

    অম্বর আচ্ছন্ন করে, এতকাল এত ক্ষুদ্র হয়ে

                  কোথা ছিল ঢাকা।

    সেইমত ভাবিতেছি আমি কবি এ পূর্ব-ভারতে,

                  কী অপূর্ব হেরি,

    বঙ্গের অঙ্গনদ্বারে কেমনে ধ্বনিল কোথা হতে

                  তব জয়ভেরী।

    তিন শত বৎসরের গাঢ়তম তমিস্রা বিদারি

                  প্রতাপ তোমার

    এ প্রাচীদিগন্তে আজি নবতর কী রশ্মি প্রসারি

                  উদিল আবার।

    মরে না, মরে না কভু সত্য যাহা শত শতাব্দীর

                  বিস্মৃতির তলে–

    নাহি মরে উপেক্ষায়, অপমানে না হয় অস্থির,

                  আঘাতে না টলে।

    যারে ভেবেছিল সবে কোন্‌কালে হয়েছে নিঃশেষ

                  কর্মপরপারে,

    এল সেই সত্য তব পূজ্য অতিথির ধরি বেশ

                  ভারতের দ্বারে।

    আজও তার সেই মন্ত্র– সেই তার উদার নয়ান

                  ভবিষ্যের পানে

    একদৃষ্টে চেয়ে আছে, সেথায় সে কী দৃশ্য মহান্‌

                  হেরিছে কে জানে।

    অশরীর হে তাপস, শুধু তব তপোমূর্তি লয়ে

                  আসিয়াছ আজ–

    তবু তব পুরাতন সেই শক্তি আনিয়াছ বয়ে,

                  সেই তব কাজ।

    আজি তব নাহি ধ্বজা, নাই সৈন্য রণ-অশ্বদল

                  অস্ত্র খরতর–

    আজি আর নাহি বাজে আকশেরে করিয়া পাগল

                  “হর হর হর’।

    শুধু তব নাম আজি পিতৃলোক হতে এল নামি,

                  করিল আহ্বান–

    মুহূর্তে হৃদয়াসনে তোমারেই বরিল, হে স্বামী,

                  বাঙালির প্রাণ।

    এ কথা ভাবে নি কেহ এ তিন-শতাব্দ-কাল ধরি–

                  জানে নি স্বপনে–

    তোমার মহৎ নাম বঙ্গ-মারাঠারে এক করি

                  দিবে বিনা রণে।

    তোমার তপস্যাতেজ দীর্ঘকাল করি অন্তর্ধান

                  আজি অকস্মাৎ

    মৃত্যুহীন বাণী-রূপে আনি দিবে নূতন পরান

                  নূতন প্রভাত।

    মারাঠার প্রান্ত হতে একদিন তুমি ধর্মরাজ,

                  ডেকেছিলে যবে

    রাজা ব’লে জানি নাই, মানি নাই, পাই নাই লাজ

                  সে ভৈরব রবে।

    তোমার কৃপাণদীপ্তি একদিন যবে চমকিলা

                  বঙ্গের আকাশে

    সে ঘোর দুর্যোগদিনে না বুঝিনু রুদ্র সেই লীলা,

                  লুকানু তরাসে।

    মৃত্যুসিংহাসনে আজি বসিয়াছ অমরমুরতি–

                  সমুন্নত ভালে

    যে রাজকিরীট শোভে লুকাবে না তার দিব্যজ্যোতি

                  কভু কোনোকালে।

    তোমারে চিনেছি আজি, চিনেছি চিনেছি হে রাজন্‌,

                  তুমি মহারাজ।

    তব রাজকর লয়ে আট কোটি বঙ্গের নন্দন

                  দাঁড়াইবে আজ।

    সেদিন শুনি নি কথা– আজ মোরা তোমার আদেশ

                  শির পাতি লব।

    কণ্ঠে কণ্ঠে বক্ষে বক্ষে ভারতে মিলিবে সর্বদেশ

                  ধ্যানমন্ত্রে তব।

    ধ্বজা করি উড়াইব বৈরাগীর উত্তরী বসন–

                  দরিদ্রের বল।

    “একধর্মরাজ্য হবে এ ভারতে’ এ মহাবচন

                  করিব সম্বল।

     মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক কন্ঠে বলো

                  “জয়তু শিবাজি’।

     মারাঠির সাথে আজি, হে বাঙালি, এক সঙ্গে চলো

                  মহোৎসবে সাজি।

     আজি এক সভাতলে ভারতের পশ্চিম-পূরব

                  দক্ষিণে ও বামে

     একত্রে করুক ভোগ একসাথে একটি গৌরব

                  এক পুণ্য নামে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গিরিধি, ১১ ভাদ্র, ১৩১১

Hits: 227

উল্টোপূজার রোগ

উল্টোপূজার রোগ

মারলে মারুক, কাটলে কাটুক, লাগলে লাগুক ব্যথা।
ভুলেও তবু আনি না মুখে, প্রতিশোধের কথা।
সাবাড় হয়ে, উজাড় হয়ে, পেলাম গভীর শোক।
হঠাৎ চেপে ধরল আমায় উল্টোপূজার রোগ।
যাদের কোপে ভিটে ছেড়ে এলাম তড়িঘড়ি,
হেসেখেলে দুই বেলা রোজ তাদের স্মরণ করি।
রহিম চাচা, করিম চাচা, ইসমাইলের ফৌজ।
দিদি ওদের বাঁদি হল, ভাইগুলো নিখোঁজ।
বাপকে ওরা পুঁতে দিল, মাকে দিল ছাড়;
রহিম চাচার অনেক দয়া, করুণা অপার।
করিম চাচা করিয়ে দিলেন কলকাতাতে পাড়ি।
একটু না হয় দুষ্টু চাচা, ভালোমানুষ ভারী।
সাম্প্রদায়িক স্মৃতিগুলো দেখায় খালি ভয়,
এসব কথা লাভ কী ভেবে? ভুলে গেলেই হয়।
আস্তে বলি, চিল্‌লে বলি, কাঁপিয়ে দেই মাঠ।
বাস্তু হারায় পেয়েছি আমি যাদবপুরের ফ্ল্যাট।
ভাবতে এখন ভালোই লাগে, নিজের খাটে বসে।
ক্ষতির থেকে লাভই বেশি, দেখছি আমি কষে।
ওরা যতই অশান্ত হোক, কাঁপিয়ে তুলুক বাড়ি;
ওদের মতন অসহিষ্ণু, আমরা কি আর পারি?
আমার মতন সহিষ্ণুতা, কেন যে আর নাই।
উল্টোপূজার রোগটা আমি ছড়িয়ে দিতে চাই।
এ রোগ আমার মনের মতন, নরক দেখায় স্বর্গ।
অত্যাচারীর অত্যাচারেই লাঞ্ছিতাদের গর্ব।

স্মৃতিলেখা চক্রবর্তী

Hits: 243

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

This entry is part 2 of 2 in the series অষ্টোত্তর শতনাম

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণাসাগর॥
জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল বনমালী।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারি॥
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দ নাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে॥
দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণারবিন্দে॥
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছে মায়ায় বদ্ধ হয়ে বৃক্ষসম হইনু॥
ফলরূপে পুত্র-কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষ বাসা করে॥
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দেবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে॥
বসুদেব রাখি এল নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥
শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন। ১
যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন॥ ২
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল। ৩
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল॥ ৪
সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই। ৫
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই॥ ৬
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী। ৭
কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী॥ ৮
কুব্জা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি। ৯
চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী॥ ১০
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া। ১১
কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া॥ ১২
কণ্বমুনি নাম রাখে দেব-চক্রপাণি। ১৩
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী॥ ১৪
গজদন্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন। ১৫
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ণ॥ ১৬
পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ। ১৭
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু॥ ১৮
সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন। ১৯
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন॥ ২০
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর। ২১
পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর॥ ২২
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর। ২৩
বিদুর রাখিল নাম কাঙাল ঈশ্বর॥ ২৪
বাসুকি রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি-স্থিতি। ২৫
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি॥ ২৬
নারদ রাখিল নাম ভক্ত-প্রাণধন। ২৭
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ॥ ২৮
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি। ২৯
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি॥ ৩০
বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার। ৩১
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার॥ ৩২
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি। ৩৩
পঞ্চমুখে রামনাম গান ত্রিপুরারি॥ ৩৪
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী। ৩৫
প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারি॥ ৩৬
বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর। ৩৭
বিশ্বাবসু নাম রাখে নব-জলধর॥ ৩৮
সম্বর্ত্তক রাখে নাম গোবর্দ্ধনধারী। ৩৯
প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী॥ ৪০
অদিতি রাখিল নাম অরাতি-সূদন। ৪১
গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জ্জুন॥ ৪২
মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল। ৪৩
দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল॥ ৪৪
বৃন্দাবনচন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদূতী। ৪৫
বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি॥ ৪৬
বাণীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি। ৪৭
লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত্র-সারথি॥ ৪৮
সন্দীপনী নাম রাখে দেব অন্তর্যামী। ৪৯
পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী॥ ৫০
পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি। ৫১
নট-নারায়ণ নাম রাখিল সম্পাতি॥ ৫২
হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম। ৫৩
ললিতা রাখিল নাম দূর্ব্বাদলশ্যাম॥ ৫৪
বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন। ৫৫
সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন॥ ৫৬
আয়ান রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ। ৫৭
চণ্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন॥ ৫৮
জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি। ৫৯
গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম-ঘরণী॥ ৬০
ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ। ৬১
দুর্ব্বাসা রাখেন নাম অনাথের নাথ॥ ৬২
রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী। ৬৩
সর্ব্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী॥ ৬৪
উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী। ৬৫
অক্রূর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী॥ ৬৬
গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস। ৬৭
সর্ব্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ন ব্যাস॥ ৬৮
অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর। ৬৯
সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার॥ ৭০
বৃষভানু নাম রাখে পরম-ঈশ্বর। ৭১
স্বর্গবাসী নাম রাখে সর্ব্ব-পরাৎপর॥ ৭২
পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা। ৭৩
রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা॥ ৭৪
চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি-দমন। ৭৫
পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন॥ ৭৬
কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর। ৭৭
ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ শশধর॥ ৭৮
সুমালী রাখিল নাম পুরুষ-প্রধান। ৭৯
পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ-প্রাণ॥ ৮০
রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল। ৮১
আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল॥ ৮২
দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি। ৮৩
জ্যোতির্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি॥ ৮৪
অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর। ৮৫
গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর॥ ৮৬
মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত। ৮৭
জ্ঞানাতীত নাম রাখে শৌনকাদি-সুত॥ ৮৮
রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল। ৮৯
বসুগণ নাম রাখে ঠাকুর দয়াল॥ ৯০
সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন। ৯১
সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন॥ ৯২
ভাগুরি রাখিল নাম অগতির গতি। ৯৩
মত্স্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি॥ ৯৪
শুক্রাচার্য্য রাখে নাম অখিল-বান্ধব। ৯৫
বিষ্ণুলোকে নাম রাখে শ্রীমাধব॥ ৯৬
যদুগণ নাম রাখে যদুকুলপতি। ৯৭
অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি॥ ৯৮
অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ। ৯৯
সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন॥ ১০০
পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী। ১০১
ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী॥ ১০২
বঙ্কচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী। ১০৩
মাধুরী রাখিল নাম গোপী-মনোহারী॥ ১০৪
মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট পূরণ। ১০৫
কুটিলা রাখিল নাম মদনমোহন॥ ১০৬
মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মবন্ধ-নাশ। ১০৭
ব্রজবধূ নাম রাখে পূর্ণ অভিলাষ॥ ১০৮
দৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্য-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ॥
স্বরূপে সবার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুণ্ঠে বৈকুণ্ঠনাথ কমলার পতি॥
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম॥
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম-ঈশ্বর॥
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিত-পাবন গুরু জ্ঞান উপদেশ॥
চিন্তামণি চতুর্ভূজদেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি॥
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা॥
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের মহিমা অপার॥
শতভার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান॥
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি॥
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্ত্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর॥
ব্রহ্মা-আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়।
সে ধনে বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়॥
হিরণ্যকশিপুর উদর-বিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ॥
বলীরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ॥
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা-কৃষ্ণের চরণ॥
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংস-ধ্বংস লঙ্কায় রাবণ॥
বকাসুর বধ আদি কালিয় দমন।
নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্ত্তন॥

শ্রী নরোত্তম দাস বিরচিত

Hits: 224

শ্রীশ্রীকালীর অষ্টোত্তর শতনাম

শ্রীশ্রীকালীর অষ্টোত্তর শতনাম

This entry is part 1 of 2 in the series অষ্টোত্তর শতনাম

করালিনী কালী মাগো কৈবল্যদায়িনী। ১
জগদম্বা নামে তুমি বিমুক্তকারিণী॥ ২
দুঃখনাশ কর বলি হলে দুঃখহরা। ৩
জগতের মাতা তুমি হর মনোহরা॥ ৪
বিপদে রেখো মা কোলে ওগো হরজায়া। ৫
মায়া বিস্তারিয়া মাগো হলে মহামায়া॥ ৬
মৃগনেত্র সম বলি কুরঙ্গনয়নী। ৭
রণেতে প্রমত্ত বলি চণ্ডী মা জননী॥ ৮
শঙ্করের জায়া বলি হলে মা শঙ্করী। ৯
ভব জায়া বলি তুমি ভবানী ঈশ্বরী॥ ১০
ভীষণ আনন বলি করালবদনী। ১১
দীনহীনে কর দয়া দনুজদলনী॥ ১২
কৃত্তিবাস হলে মাগো বাগছাল পরি। ১৩
কৃত্তিবাস দারা তাই তুমি মা শঙ্করী॥ ১৪
পাপ বিনাশিনী কালী নৃমুণ্ডমালিনী। ১৫
অধীনে কর মা দয়া তুমি কাত্যায়নী॥ ১৬
কুলকুণ্ডলিনী মাগো তুমি মহাসতী। ১৭
ষড়ৈশ্বর্য্যময়ী বলি নাম ভগবতী॥ ১৮
জগত-জননী মাগো কালী কপালিনী। ১৯
কটিতে ঘুঙ্গুর পরি হলে মা কিঙ্কিনী॥ ২০
দনুজ দলন করি দনুজদলনী। ২১
দুর্গতিনাশিনী তুমি দেবী নারায়ণী॥ ২২
দুর্গাসুরবধ করি দুর্গা নামে খ্যাতা। ২৩
ত্রিলোচনী তুমি মাগো জগতের মাতা॥ ২৪
মুক্তিদান করি তুমি তারা নাম ধর। ২৫
তারিণী নামেতে তুমি জগৎ রক্ষা কর॥ ২৬
পূর্ণব্রহ্মময়ী তুমি ব্রহ্মসনাতনী। ২৭
পরমা প্রকৃতি তুমি সৃজনকারিণী॥ ২৮
বেদের সৃজন করি হলে বেদমাতা। ২৯
যোগমায়া নামে তুমি ত্রিলোকপালিতা॥ ৩০
রুদ্রের ঘরণী বলি হলে রুদ্রজায়া। ৩১
অম্বিকা নামেতে তুমি হলে মহামায়া॥ ৩২
অপর্ণা তুমি মা কালী ত্রিলোকতারিণী। ৩৩
অন্নপূর্ণা তুমি মাতা ত্রিলোকপালিনী॥ ৩৪
শঙ্কর কপালে ধরে হলে মহাকালী। ৩৫
কারণপ্রিয়া মা তুমি করণকারিকা॥ ৩৬
এ দীনে কর গো দয়া তুমি মা কালিকা। ৩৭
থাকে না কালের ভয় তোমার শরণে।
কালক্ষয়-বিনাশিনী তাই লোকে ভণে॥ ৩৮
মেঘের বরণ তাই হলে কাদম্বিনী।
কপালকুন্তলা কুন্দকুসুমধারিণী॥ ৩৯
জগতের আদি বলি নাম আদ্যাশক্তি।
অভয় চরণে যেন থাকে সদা ভক্তি॥ ৪০
মহাবিদ্যা মহামায়া তুমি করলিনী॥ ৪২
প্রজাপতি মাতা তুমি কালী করালিনী॥৪
নিজ কায় কোষ বলি হলে মা কৌশিকী।
তোমার মায়ায় মুগ্ধ জগতের ভৌতিকী॥ ৪৩
ময়ূরবাহনে সাজ তুমি মা কৌমারী। ৪৪
কালিকে কুটিলা দুর্গে তুমি মা কাবেরী॥ ৪৫
কালভয় নাশ কর তুমি কালপ্রিয়া।
তোমার অনন্ত লীলা মানব অজ্ঞেয়া॥ ৪৬
মায়া বিস্তারিয়া মাগো হলে মহামায়া।
বিপদে রেখো মা কোলে ওগো হরজায়া॥৪৭
তপোময়ী তুমি মাতা দানবদলনী।
ত্রিলোচন ত্রাণকর্ত্রী ত্রিলোকপালিনী॥ ৪৮
তত্ত্বপরায়ণী তুমি সর্ব্বসিদ্ধি দাত্রী।
জগত-পালন হেতু তুমি জগদ্ধাত্রী॥ ৪৯
দানিয়া সারূপ্যমুক্তি হলে নারায়ণী।
ত্রিবলী ধারিণী দুর্গে গুরুনিতম্বিনী॥ ৫০
ত্রিপুর দলনী দেবী লজ্জাস্বরূপিণী। ৫১
মহিষ অসুর বধি মহিষমর্দ্দিনী॥ ৫২
জয় মাতঃ ত্রিনয়নী ত্রিফল স্বরূপা।
লম্বোদর-জননী মাতা তাপিনী অনুপা॥ ৫৩
ত্রিলোকপালিনী তুমি সর্ব্বপাপ হরা।
ত্রিশূলধারিণী কালী অর্দ্ধেন্দুশেখরা॥ ৫৪
সদাই ষোড়শী তাই হইলে ষোড়শী। ৫৫
অন্নপূর্ণা নামে তুমি থাকো বারাণসী॥ ৫৬
বরণ্যে বরদা সর্ব্বমঙ্গলা শিবানী।
সর্ব্বেশ্বরী সর্ব্বধাত্রী ত্রিগুণ ধারিণী॥ ৫৭
শঙ্করের প্রিয়া তাই নাম ভবদারা। ৫৮
কামাখ্যা কমলা তুমি ভবদুঃখহরা॥ ৫৯
শান্তিবিধায়িনী তুমি মহারুদ্রপ্রিয়া।
বধি শুম্ভ-নিশম্ভাদি হইলে অজেয়া॥ ৬০
কামদাত্রী নামে তুমি কামনা পুরাও। ৬১
মহেশ্বরী নামে তুমি ভববক্ষে রও॥ ৬২
কাল কাদম্বরী মাগো রাজ-রাজেশ্বরী।
ত্রিপুর-নাশিনী তুমি ত্রিপুরসুন্দরী॥ ৬৩
করুণাক্ষী হলে তুমি বিতরি করুণা।
দীনহীনে কর দয়া অনন্ত-নয়না॥ ৬৪
ঈশান মহিষী তাই হইতে ঈশানী। ৬৫
চণ্ডমুণ্ড বধ করি চামুণ্ডারূপিণী॥ ৬৬
ত্রিলোকের অধিষ্ঠাত্রী ত্রিলোক-ঈশ্বরী।
ত্রাণকর্ত্রী ত্রিনয়না ত্রিপুরাসুন্দরী॥ ৬৭
তুমি ক্ষুদা তুমি তৃষ্ণা বুদ্ধি স্বরূপিণী। ৬৮
সত্ত্ব রজঃ তমঃ ইতি ত্রিগুণধারিণী॥ ৬৯
সাবিত্রী তুমি মা তারা মুক্তিবিধায়িনী।
শোক দুঃখ বিনাশিনী তুমি মা সর্ব্বাণী॥ ৭০
অশিবনাশিনী কালী দুর্গতিনাশিনী।
ভগবতী সুরেশ্বরী অসুরঘাতিনী॥ ৭১
সহস্রাক্ষী সপ্তসতী শঙ্করী-ঈশ্বরী। ৭২
বিদ্যাদাত্রী সুখপ্রদা তুমি শাকম্ভরী॥ ৭৩
শবোপরি উপবিষ্টা সরোজ বাসিনী।
ভূতপ্রেত সঙ্গিনী মা শ্মশান বাসিনী॥ ৭৪
ধর্ম্ম-অর্থ-কাম মোক্ষফল-বিধায়িনী।
তুমি মা কালীকে দুর্গে শ্রীকৃষ্ণ-জননী॥ ৭৫
অসুরাদি বধে দেবী রণ-উন্মাদিনী।
সহস্রলোচনী তারা দেবেন্দ্র জননী॥ ৭৬
কর মা করুণা দীনে দনুজদলনী।
সুভগা সুমুখী শিবা তুমি ত্রিলাচনী॥ ৭৭
কলুষনাশিনী তুমি তারা মুকতিদায়িনী।
সুবচনী তুমি তারা মোচনকারিণী॥ ৭৮
ধনদাত্রী ধনহারা ধর্ম্ম বিধায়িনী। ৭৯
বগলা তুমি মা তারা সুবুদ্ধিদায়িনী॥ ৮০
মাতঙ্গী তুমি মা তারা ত্রিলোকপালিনী। ৮১
বিশ্বময়ী মহেশ্বরী মলয়বাহিনী॥ ৮২
ক্ষীণোদর বলি মাগো বলে মন্দোদরী।
দীনহীনে কর কৃপা তুমি মহেশ্বরী॥ ৮৩
মধু আর কৈটভেরে করিয়া সংহার।
মধুকৈটভনাশিনী নাম যে তোমার॥ ৮৪
লক্ষ্মীস্বরূপিনী তুমি, তুমি মা কমলা।
কুরুকুল্লা কপালিনী তুমি মা চঞ্চলা॥ ৮৫
বয়সে কিশোর সদা তাই মা কিশোরী।
পীনোন্নত পয়োধরা কুমারী শঙ্করী॥ ৮৬
গিরিরাজসূতা সতী কৈলাসবাসিনী। ৮৭
কল্যাণদায়িনী সদা তাই মা কল্যাণী॥ ৮৮
গনেশ-জননী তুমি গিরিশ-নন্দিনী। ৮৯
হরমনোহরা রমা গিরীশমোহিনী॥ ৯০
শারদা শরতপ্রিয়া শিব সনাতনী। ৯১
বসুন্ধরা জগন্মাতা বরদা বারুণী॥ ৯২
বিশ্বমাতা বিশ্বময়ী তুমি এলোকেশী। ৯৩
অ-কিঞ্চনে কর দয়া ওগো ব্যোমকেশী॥ ৯৪
বহু রূপ ধর বলি মা তুমি বহুরূপিণী।
রণেতে দুর্জ্জয় মাগো দৈত্য বিনাশিনী॥ ৯৫
ভিক্ষুক-গৃহিণী সাজ তাই মা ভিক্ষুকী। ৯৬
ত্রিনয়নী মুক্তকেশী ভারতী কৌশিকী॥ ৯৭
সৃষ্টিসংহারিণী কালী তুমি ছত্রেশ্বরী।
প্রলয়ে কর মা সৃষ্টি তুমি মহেশ্বরী॥ ৯৮
নিজ মুণ্ড করি ছিন্ন হলে ছিন্নমস্তা।
কাতরে অভয়দানে হও ব্যগ্রহস্তা॥ ৯৯
ছলনা করিয়ে তুমি হলে ছলবতী।
গিরিরাজ-সুতা তুমি দেবী হৈমবতী॥ ১০০
শ্রীফলী তোমার নাম ধাত্রীফলপ্রিয়া। ১০১
শ্রীনিকেতনী নামেতে হলে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ ১০২
ধূসর বরণে তুমি হও ধূমাবতী।
মহাবিদ্যা রূপেভেদে তুমি মহাসতী॥ ১০৩
ধূম্রাক্ষনাশিনী তুমি হরের মোহিনী।
দীনহীনে কর দয়া তুমি নারায়ণী॥ ১০৪
ধানসী ধরিত্রী দেবী তুমি কাত্যায়নী। ১০৫
হরমনোহরা রমা ধূর্জ্জটিমোহিনী॥ ১০৬
গনেশ জননী তুমি গিরিশ নন্দিনী। ১০৭
হর মনোহরা রমা গিরীশ মোহিনী॥ ১০৮
অষ্টোত্তর শতনাম হল সমাপন।
আনন্দেতে কালীস্তুতি কর সর্বজন॥
ভক্তিভাবে এই নাম যে করে পঠন।
ধনরত্নে তার গৃহ হইবে পূরণ॥
অনন্ত মহিমাময় কালী শতনাম।
শ্রবণে পঠনে হয় নির্ধনের ধন॥
অন্তিমে কালীর পদ পায় সেই জন॥

শ্রী পশুপতি চট্টোপাধ্যায়, কাব্যবিনোদ কর্তৃক সঙ্কলিত

Hits: 158