লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন শেষ পর্ব

বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় মডেল শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি প্রেম করে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন আদনান ফারুক হিল্লোলকে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব উজ্জ্বলবিকাশ দত্তের কন্যা তিন্নি মিডিয়াকে বলেছিলেন “আমার দাদু বলতেন, ‘মানুষ আপন টাকা পর, যত পারিস মানুষ ধর’ (ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)। তাই আমি টাকা নয়, মানুষকে ভালবেসেছি সব সময়।” ইসলামে যেহেতু যখন খুশি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আরেকটা বিয়ে করার সুযোগ আছে, তাই হিল্লোল নিজের বেহেশ্‌ত নিশ্চিত করার পর তিন্নিকে কন্যাসহ তালাক দিয়ে আরেক মডেল নওশীনের পিছু নেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তিন্নির বোধোদয় হয়নি, কাণ্ডজ্ঞানহীন মা-বাবার আশ্রয়ে থাকার পরও তিন্নি পুনরায় এক মুসলিম বন্ধু আদনান হুদা সাদ-কে গোপনে বিয়ে করে। একইভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস ১০ এপ্রিল ২০১৭ মিডিয়াতে তার পুত্রসন্তান নিয়ে হাজির হয়ে বলেন ২০০৮ সালেই তিনি শাকিব খানকে গোপনে বিয়ে করেছেন। তার ধর্মান্তরিত নাম অপু ইসলাম খান। কিন্তু শাকিব এখন তাকে গ্রহণ না করে নায়িকা বুবলির পিছু নিয়েছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রন্টি দাশ তার পরিবারের মুখে চুনকালি মাখিয়ে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। বাপ্পা মজুমদারের মতো সুপারস্টার শিল্পী অভিনেত্রী চাঁদনীকে বিয়ে করতে ইসলাম গ্রহণ করে হলেন বাপ্পা আহমেদ। রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারের কন্যা এপা মজুমদার মুসলিম বিবাহ করেছেন। কমল দাশগুপ্তের সন্তানরাও মুসলিম। সেকুলার কবি নির্মলেন্দু গুণের স্ত্রী-কন্যা সবাই মুসলমান বিয়ে করেছে। এই রকম শিক্ষিত-ভদ্র-সাংস্কৃতিক কিন্তু বাস্তব ধর্মজ্ঞানশূন্য পরিবারের কন্যাদের ধর্মান্তরের হার বেশি। আবার বর্ণবিচারের জাঁতাকলে ব্রাহ্মণ কন্যাগণের ধর্মান্তর অনুপাত বেশি। এসব ঘটনায়। সমস্যা কোথায়? ‘এতে হিন্দু বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে জিহাদী বংশের সূত্রপাত হয়।’ কীভাবে? দেখুন তবে—

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারের কন্যা শর্মিলা ঠাকুর মুসলিম হয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খানকে বিয়ে করেন। স্বামীর মতো তার পুত্র বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানও একজন লাভজিহাদী। ১৯৯১ সালে সে বিয়ে করে হিন্দু অমৃতা সিং-কে। ১৩ বছরের সংসার করে দুই সন্তানসহ অমৃতাকে তালাক দেয় সে। একথা গোপন রেখে ইটালিয়ান মডেল রোজার সাথে সে প্রেম করে তিন বছর। এরপর ২০০৭ সাল থেকে নায়িকা কারিনা কাপুরের সাথে প্রেম করে এবং ২০১২ সালে ইসলামী মতে নিকাহ্ করে। হিন্দু কারিনা হয়ে যান কারিনা কাপুর খান। খান পরিবার তাদের ছেলের নাম রেখেছে ‘তৈমুর’। ইতিহাসে তৈমুর কে ছিল জানেন?—একজন হিন্দুনিধনকারী বর্বর মুসলিম শাসক। তৈমুর নিজেকে ইসলামের তলোয়ার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনী ‘মালফুজাত-ই-তৈমুরী’-তে লিখেছেন, “আমার হিন্দুস্থান জয়ের সঙ্কল্প অনড়-অটল।…আমি সঠিক নির্দেশের জন্য পবিত্র কোরানের শরণাপন্ন হলাম। তাতে বলা হয়েছে, ‘হে মোহাম্মদ! বিধর্মী ও অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।’ এই সময়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে এক অভিযানের প্রবল বাসনা আমার হৃদয়-মনকে আলোড়িত করে। কারণ আমি শুনেছি, জিহাদে কাফের হত্যা করলে ‘গাজী হওয়া যায় এবং নিহত হলে ‘শহীদ।” এরপর অন্যায় যুদ্ধে একের পর এক হিন্দুরাজ্য জয় করেন তৈমুর। তিনি রাজস্থানের হিন্দুরাজ্য ভাটনী ভস্মীভূত করে রাজপুত ও জাঠ সেনাদের হত্যা করে তাদের স্ত্রী-কন্যাদেরকে বন্দী করে নিয়ে তাঁর মুসলিম বাহিনীর যৌনদাসী করেন। এরপর তিনি যমুনার তীরে অতর্কিত আক্রমণ করেন ক্ষুদ্র রাজপুত বাহিনীর ওপর। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বীরদর্পে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেন হিন্দুসেনাগণ। মৃত্যুর আগে মুসলমানদের কাছ থেকে নিজেদের স্ত্রী-কন্যাদের সন্ত্রম রক্ষার্থে তাঁদেরকে আগুনে আত্মাহুতির ব্যবস্থা করে দেন তারা, যার নাম ‘সতীদাহ’। মুসলিমদের হারেমে হিন্দু নারীদের আজীবন যৌনদাসী হয়ে থাকা ও জেহাদী বাচ্চা জন্ম দেওয়ার গ্লানিকর জীবন থেকে মুক্তির জন্যই সতীদাহ প্রথার উদ্ভব হয়েছিল। এরপর দিল্লির অভিমুখে যাত্রার পূর্বে তৈমুর অসহায় যুদ্ধবন্দী লক্ষাধিক হিন্দুকে হত্যার নির্দেশ দেন। এত বিপুলসংখ্যক শৃঙ্খলিত যুদ্ধবন্দীকে নৃশংসভাবে হত্যার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এমন বর্বরতা গত এক হাজার বছর ধরে হিন্দুদের ওপর চালিয়েছে প্রায় প্রত্যেক মুসলিম সুলতান-বাদশা-নবাব।

পড়ুন  লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

তাই ধর্মান্তরিতা কারিনা কাপুরের ছেলের ‘তৈমুর’ নামকরণ হিন্দু জাতিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন যে, কোন একজন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলে হিন্দুর সংখ্যা শুধু কমে না, হিন্দুর শক্ৰসংখ্যাও বাড়ে। তাই অস্তিত্ব রক্ষার্থে যেকোন মূল্যে ধর্মান্তর প্রতিরোধ করতেই হবে।

ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন? দেখুন আল্লাহ্ কী বলছেন—“পুরুষ নারীর কর্তা।… স্ত্রীদের মধ্যে যাহাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর… তাহাদেরকে প্রহার কর।”[^1] “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।” [^2]—এই আয়াত থেকে নারী নিজেই আল্লাহর দৃষ্টিতে তার মর্যাদা ও অবস্থান খুঁজে নিক। “মানুষকে মোহগ্রস্ত করেছে নারীর মতো আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু।” [^3] অর্থাৎ নারী যে ‘ভোগ্যবস্তু’ কোরান তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে। কার ভোগ্যবস্তু? মানুষের। মানুষ কারা? পুরুষরাই মানুষ। আল্লাহর দৃষ্টিতে নারী কি তবে মানুষ নয়? হাদিসে এর উত্তরে নবীজি বলেছেন—“নিশ্চয় স্ত্রীলোক শয়তানের আকৃতিতে আগমন করে ও শয়তানের আকৃতিতে প্রত্যাবর্তন করে।” [^4] “স্ত্রীলোক শয়তানের ফাঁদ।” [^5] “নারী হলো গাধা ও কালো। কুকুরের সমতুল্য। কালো কুকুর একটা শয়তান।” [^6] পুরুষ যে কারণে তার স্ত্রীকে প্রহার করে, সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। [^7] এসব কারণে মুসলিম সমাজে নারী নির্যাতন অত্যধিক বেশি।

অপরদিকে হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ বেদ বলছে- “হে স্ত্রী! শ্বশুরের নিকট সম্রাজ্ঞী হও, শাশুড়ীর নিকট ম্রাজ্ঞী হও, ননদদের নিকট সম্রাজ্ঞী হও এবং দেবরদের নিকট সম্রাজ্ঞীর অধিকার প্রাপ্ত হও।” [^8] “পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যভিচার করবেন না। এই হলো নারীপুরুষের পরম ধর্ম।” [^9] “স্ত্রীলোককে রক্ষণরূপ ধর্ম সকল বর্ণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ কর্তব্য। তাই অন্ধ, পঙ্গু ও দুর্বল স্বামীরাও নিজ নিজ স্ত্রী-কন্যাকে যত্নপূর্বক রক্ষা করবেন।” [^10] যে গৃহে নারী সুখী নয়, সে গৃহে কোন দেবতা গমন করে না। মনুসংহিতার ৯/১২ শ্লোকে বলা হয়েছে, নারীকে ঘরে আটকে রাখা মানেই নিরাপত্তা নয়। বরং তাকে বাস্তব সমাজ, নিজধর্ম, সংস্কৃতি, ভাল-মন্দ ও আত্মরক্ষা বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে, যাতে বাহিরেও তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে, আর কুসঙ্গ যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। এরকম উন্নত ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু সমাজে মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত উন্নত। এখানে নারী নির্যাতন নেই বললেই চলে। স্বামী নিগৃহীতা কোন নারীকে তাই রাস্তায় দেখা যায় না। হিন্দু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় না। জেলখানায় কয়েদীদের মধ্যে হিন্দু আছে ২ শতাংশেরও কম (তাও অনেকে মিথ্যা মামলায়)। সারাদেশে মুসলিম এতিম শিশুর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, কিন্তু হিন্দু অনাথ শিশুর সংখ্যা ১ হাজারেরও কম। হিন্দুরা কখনো দেশদ্রোহী ও জঙ্গী হয় না। হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরাও তুলনামূলকভাবে বেশি মেধাবী। হিন্দুধর্মে নারী যতটা স্বাধীনতা ও মর্যাদা পায় তা বিশ্বের আর কোন ধর্ম ও সমাজে পায় না। হিন্দুনারী-পুরুষ একসাথে পূজা করতে পারে। স্ত্রী ছাড়া স্বামীর কোন পূজা-যজ্ঞ সম্পন্ন হতে পারে না, তাই স্ত্রীকে সহধর্মিণী ও অর্ধাঙ্গিনী বলা হয়। মুসলিম স্ত্রীদের এটা বলা যায় না। কারণ, মুসলিম নারী-পুরুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারে না। মন্দিরে নারী দেবী পূজিতা হন। মসজিদে-ঈদগাহে নারীদের প্রবেশই নিষেধ। হিন্দুনারী পৌরোহিত্য করতে পারে, কীৰ্ত্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে, মুসলিম নারী কখনো ইমাম হতে পারে না, আজান দিতে পারে না। নারীর নেতৃত্ব হিন্দুধর্মে ও সমাজে স্বীকৃত। ইসলামে নারীর নেতৃত্ব হারাম। বিশ্বের প্রাচীনতম ও হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদ রচয়িতা ঋষিদের মধ্যে ২৭ জন বিদুষী নারী ঋষি ছিলেন। বিশ্বের অন্য কোন ধর্মের গ্রন্থ রচনাতে নারীর কোন অবদান স্বীকার করাই হয়নি। হিন্দু বিবাহ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিবাহ। এটা একটা ব্রত, অবিচ্ছেদ্য, আজীবন সুখে-দুঃখে একসাথে থাকার সঙ্কল্প। কিন্তু মুসলিম বিয়ে/নিকা ‘অর্থের (দেনমোহর) বিনিময়ে সহবাস করার চুক্তি/কন্ট্রাক্ট” যা যেকোন সময় বাতিল (তালাক) করা যায়। ফলে, পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতায় মুসলিম বধূর নিরাপত্তা সর্বদাই ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত।

পড়ুন  লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

হিন্দুকন্যাদের বলছি, যদি কোন মুসলিম ছেলে তোমার প্রেমে খুব পাগল হয়, তবে তাকে পরীক্ষা করতে বলো—সে মাত্র ৬ মাস প্রতিদিন ১৬ মালা হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করুক। তারপর সে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করলে তবেই তুমি তাকে বিয়ে করবে। তোমার মা-বাবাকেও তুমি রাজি করাবে বলে জানাও। দেখবে, তার অনন্ত প্রেম হাওয়াই মিঠের মতো চুপসে গেছে। তার ভণ্ডামী ধরা পড়ে যাবে। অথচ তাকে ভালবেসে বিয়ে করতে হলে তোমাকে মা-বাবা, পরিবার, স্বজন, ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি সবকিছুই ত্যাগ করে আজীবন দাসী হয়ে থাকতে হবে। ভাবো। সিদ্ধান্ত তোমার।

ধর্ম ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই পত্রটি ফটোকপি করে আপনার পরিচিত সকল হিন্দুকে পড়ান। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ। জয় শ্রীরাম।

[^1]: কোরান ৪/৩৪

[^2]: কোরান ২/২২৩

[^3]: কোরান ৩/১৪

[^4]: ১৫, মোসলেম

[^5]: শোবল ঈমান, পৃ. ১৮৮

[^6]: ১০৩৩, মুসলিম শরীফ

[^7]: আবু দাউদ, ইবনে মাজা, পৃ. ১৩৪

[^8]: ঋগ্বেদ ১০/৮৫/৪৬

[^9]: মনুসংহিতা, ৯/১০১

[^10]: মনুসংহিতা, ৯/৬

Series Navigation<< লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

Hits: 431

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *