শ্রীশ্রীকালীর অষ্টোত্তর শতনাম

শ্রীশ্রীকালীর অষ্টোত্তর শতনাম

This entry is part 1 of 2 in the series অষ্টোত্তর শতনাম

করালিনী কালী মাগো কৈবল্যদায়িনী। ১
জগদম্বা নামে তুমি বিমুক্তকারিণী॥ ২
দুঃখনাশ কর বলি হলে দুঃখহরা। ৩
জগতের মাতা তুমি হর মনোহরা॥ ৪
বিপদে রেখো মা কোলে ওগো হরজায়া। ৫
মায়া বিস্তারিয়া মাগো হলে মহামায়া॥ ৬
মৃগনেত্র সম বলি কুরঙ্গনয়নী। ৭
রণেতে প্রমত্ত বলি চণ্ডী মা জননী॥ ৮
শঙ্করের জায়া বলি হলে মা শঙ্করী। ৯
ভব জায়া বলি তুমি ভবানী ঈশ্বরী॥ ১০
ভীষণ আনন বলি করালবদনী। ১১
দীনহীনে কর দয়া দনুজদলনী॥ ১২
কৃত্তিবাস হলে মাগো বাগছাল পরি। ১৩
কৃত্তিবাস দারা তাই তুমি মা শঙ্করী॥ ১৪
পাপ বিনাশিনী কালী নৃমুণ্ডমালিনী। ১৫
অধীনে কর মা দয়া তুমি কাত্যায়নী॥ ১৬
কুলকুণ্ডলিনী মাগো তুমি মহাসতী। ১৭
ষড়ৈশ্বর্য্যময়ী বলি নাম ভগবতী॥ ১৮
জগত-জননী মাগো কালী কপালিনী। ১৯
কটিতে ঘুঙ্গুর পরি হলে মা কিঙ্কিনী॥ ২০
দনুজ দলন করি দনুজদলনী। ২১
দুর্গতিনাশিনী তুমি দেবী নারায়ণী॥ ২২
দুর্গাসুরবধ করি দুর্গা নামে খ্যাতা। ২৩
ত্রিলোচনী তুমি মাগো জগতের মাতা॥ ২৪
মুক্তিদান করি তুমি তারা নাম ধর। ২৫
তারিণী নামেতে তুমি জগৎ রক্ষা কর॥ ২৬
পূর্ণব্রহ্মময়ী তুমি ব্রহ্মসনাতনী। ২৭
পরমা প্রকৃতি তুমি সৃজনকারিণী॥ ২৮
বেদের সৃজন করি হলে বেদমাতা। ২৯
যোগমায়া নামে তুমি ত্রিলোকপালিতা॥ ৩০
রুদ্রের ঘরণী বলি হলে রুদ্রজায়া। ৩১
অম্বিকা নামেতে তুমি হলে মহামায়া॥ ৩২
অপর্ণা তুমি মা কালী ত্রিলোকতারিণী। ৩৩
অন্নপূর্ণা তুমি মাতা ত্রিলোকপালিনী॥ ৩৪
শঙ্কর কপালে ধরে হলে মহাকালী। ৩৫
কারণপ্রিয়া মা তুমি করণকারিকা॥ ৩৬
এ দীনে কর গো দয়া তুমি মা কালিকা। ৩৭
থাকে না কালের ভয় তোমার শরণে।
কালক্ষয়-বিনাশিনী তাই লোকে ভণে॥ ৩৮
মেঘের বরণ তাই হলে কাদম্বিনী।
কপালকুন্তলা কুন্দকুসুমধারিণী॥ ৩৯
জগতের আদি বলি নাম আদ্যাশক্তি।
অভয় চরণে যেন থাকে সদা ভক্তি॥ ৪০
মহাবিদ্যা মহামায়া তুমি করলিনী॥ ৪২
প্রজাপতি মাতা তুমি কালী করালিনী॥৪
নিজ কায় কোষ বলি হলে মা কৌশিকী।
তোমার মায়ায় মুগ্ধ জগতের ভৌতিকী॥ ৪৩
ময়ূরবাহনে সাজ তুমি মা কৌমারী। ৪৪
কালিকে কুটিলা দুর্গে তুমি মা কাবেরী॥ ৪৫
কালভয় নাশ কর তুমি কালপ্রিয়া।
তোমার অনন্ত লীলা মানব অজ্ঞেয়া॥ ৪৬
মায়া বিস্তারিয়া মাগো হলে মহামায়া।
বিপদে রেখো মা কোলে ওগো হরজায়া॥৪৭
তপোময়ী তুমি মাতা দানবদলনী।
ত্রিলোচন ত্রাণকর্ত্রী ত্রিলোকপালিনী॥ ৪৮
তত্ত্বপরায়ণী তুমি সর্ব্বসিদ্ধি দাত্রী।
জগত-পালন হেতু তুমি জগদ্ধাত্রী॥ ৪৯
দানিয়া সারূপ্যমুক্তি হলে নারায়ণী।
ত্রিবলী ধারিণী দুর্গে গুরুনিতম্বিনী॥ ৫০
ত্রিপুর দলনী দেবী লজ্জাস্বরূপিণী। ৫১
মহিষ অসুর বধি মহিষমর্দ্দিনী॥ ৫২
জয় মাতঃ ত্রিনয়নী ত্রিফল স্বরূপা।
লম্বোদর-জননী মাতা তাপিনী অনুপা॥ ৫৩
ত্রিলোকপালিনী তুমি সর্ব্বপাপ হরা।
ত্রিশূলধারিণী কালী অর্দ্ধেন্দুশেখরা॥ ৫৪
সদাই ষোড়শী তাই হইলে ষোড়শী। ৫৫
অন্নপূর্ণা নামে তুমি থাকো বারাণসী॥ ৫৬
বরণ্যে বরদা সর্ব্বমঙ্গলা শিবানী।
সর্ব্বেশ্বরী সর্ব্বধাত্রী ত্রিগুণ ধারিণী॥ ৫৭
শঙ্করের প্রিয়া তাই নাম ভবদারা। ৫৮
কামাখ্যা কমলা তুমি ভবদুঃখহরা॥ ৫৯
শান্তিবিধায়িনী তুমি মহারুদ্রপ্রিয়া।
বধি শুম্ভ-নিশম্ভাদি হইলে অজেয়া॥ ৬০
কামদাত্রী নামে তুমি কামনা পুরাও। ৬১
মহেশ্বরী নামে তুমি ভববক্ষে রও॥ ৬২
কাল কাদম্বরী মাগো রাজ-রাজেশ্বরী।
ত্রিপুর-নাশিনী তুমি ত্রিপুরসুন্দরী॥ ৬৩
করুণাক্ষী হলে তুমি বিতরি করুণা।
দীনহীনে কর দয়া অনন্ত-নয়না॥ ৬৪
ঈশান মহিষী তাই হইতে ঈশানী। ৬৫
চণ্ডমুণ্ড বধ করি চামুণ্ডারূপিণী॥ ৬৬
ত্রিলোকের অধিষ্ঠাত্রী ত্রিলোক-ঈশ্বরী।
ত্রাণকর্ত্রী ত্রিনয়না ত্রিপুরাসুন্দরী॥ ৬৭
তুমি ক্ষুদা তুমি তৃষ্ণা বুদ্ধি স্বরূপিণী। ৬৮
সত্ত্ব রজঃ তমঃ ইতি ত্রিগুণধারিণী॥ ৬৯
সাবিত্রী তুমি মা তারা মুক্তিবিধায়িনী।
শোক দুঃখ বিনাশিনী তুমি মা সর্ব্বাণী॥ ৭০
অশিবনাশিনী কালী দুর্গতিনাশিনী।
ভগবতী সুরেশ্বরী অসুরঘাতিনী॥ ৭১
সহস্রাক্ষী সপ্তসতী শঙ্করী-ঈশ্বরী। ৭২
বিদ্যাদাত্রী সুখপ্রদা তুমি শাকম্ভরী॥ ৭৩
শবোপরি উপবিষ্টা সরোজ বাসিনী।
ভূতপ্রেত সঙ্গিনী মা শ্মশান বাসিনী॥ ৭৪
ধর্ম্ম-অর্থ-কাম মোক্ষফল-বিধায়িনী।
তুমি মা কালীকে দুর্গে শ্রীকৃষ্ণ-জননী॥ ৭৫
অসুরাদি বধে দেবী রণ-উন্মাদিনী।
সহস্রলোচনী তারা দেবেন্দ্র জননী॥ ৭৬
কর মা করুণা দীনে দনুজদলনী।
সুভগা সুমুখী শিবা তুমি ত্রিলাচনী॥ ৭৭
কলুষনাশিনী তুমি তারা মুকতিদায়িনী।
সুবচনী তুমি তারা মোচনকারিণী॥ ৭৮
ধনদাত্রী ধনহারা ধর্ম্ম বিধায়িনী। ৭৯
বগলা তুমি মা তারা সুবুদ্ধিদায়িনী॥ ৮০
মাতঙ্গী তুমি মা তারা ত্রিলোকপালিনী। ৮১
বিশ্বময়ী মহেশ্বরী মলয়বাহিনী॥ ৮২
ক্ষীণোদর বলি মাগো বলে মন্দোদরী।
দীনহীনে কর কৃপা তুমি মহেশ্বরী॥ ৮৩
মধু আর কৈটভেরে করিয়া সংহার।
মধুকৈটভনাশিনী নাম যে তোমার॥ ৮৪
লক্ষ্মীস্বরূপিনী তুমি, তুমি মা কমলা।
কুরুকুল্লা কপালিনী তুমি মা চঞ্চলা॥ ৮৫
বয়সে কিশোর সদা তাই মা কিশোরী।
পীনোন্নত পয়োধরা কুমারী শঙ্করী॥ ৮৬
গিরিরাজসূতা সতী কৈলাসবাসিনী। ৮৭
কল্যাণদায়িনী সদা তাই মা কল্যাণী॥ ৮৮
গনেশ-জননী তুমি গিরিশ-নন্দিনী। ৮৯
হরমনোহরা রমা গিরীশমোহিনী॥ ৯০
শারদা শরতপ্রিয়া শিব সনাতনী। ৯১
বসুন্ধরা জগন্মাতা বরদা বারুণী॥ ৯২
বিশ্বমাতা বিশ্বময়ী তুমি এলোকেশী। ৯৩
অ-কিঞ্চনে কর দয়া ওগো ব্যোমকেশী॥ ৯৪
বহু রূপ ধর বলি মা তুমি বহুরূপিণী।
রণেতে দুর্জ্জয় মাগো দৈত্য বিনাশিনী॥ ৯৫
ভিক্ষুক-গৃহিণী সাজ তাই মা ভিক্ষুকী। ৯৬
ত্রিনয়নী মুক্তকেশী ভারতী কৌশিকী॥ ৯৭
সৃষ্টিসংহারিণী কালী তুমি ছত্রেশ্বরী।
প্রলয়ে কর মা সৃষ্টি তুমি মহেশ্বরী॥ ৯৮
নিজ মুণ্ড করি ছিন্ন হলে ছিন্নমস্তা।
কাতরে অভয়দানে হও ব্যগ্রহস্তা॥ ৯৯
ছলনা করিয়ে তুমি হলে ছলবতী।
গিরিরাজ-সুতা তুমি দেবী হৈমবতী॥ ১০০
শ্রীফলী তোমার নাম ধাত্রীফলপ্রিয়া। ১০১
শ্রীনিকেতনী নামেতে হলে বিষ্ণুপ্রিয়া॥ ১০২
ধূসর বরণে তুমি হও ধূমাবতী।
মহাবিদ্যা রূপেভেদে তুমি মহাসতী॥ ১০৩
ধূম্রাক্ষনাশিনী তুমি হরের মোহিনী।
দীনহীনে কর দয়া তুমি নারায়ণী॥ ১০৪
ধানসী ধরিত্রী দেবী তুমি কাত্যায়নী। ১০৫
হরমনোহরা রমা ধূর্জ্জটিমোহিনী॥ ১০৬
গনেশ জননী তুমি গিরিশ নন্দিনী। ১০৭
হর মনোহরা রমা গিরীশ মোহিনী॥ ১০৮
অষ্টোত্তর শতনাম হল সমাপন।
আনন্দেতে কালীস্তুতি কর সর্বজন॥
ভক্তিভাবে এই নাম যে করে পঠন।
ধনরত্নে তার গৃহ হইবে পূরণ॥
অনন্ত মহিমাময় কালী শতনাম।
শ্রবণে পঠনে হয় নির্ধনের ধন॥
অন্তিমে কালীর পদ পায় সেই জন॥

শ্রী পশুপতি চট্টোপাধ্যায়, কাব্যবিনোদ কর্তৃক সঙ্কলিত

Hits: 158