পশ্চিমবঙ্গে জামাত সাংসদ? পর্ব ১

পশ্চিমবঙ্গে জামাত সাংসদ? পর্ব ১

বইটি ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ সংগঠন থেকে প্রকাশিত। স্ক্যান করেছেন শ্রী অভিজিৎ মাহাতো। বইটি দুই পর্বে প্রকাশিত হবে হিন্দুত্ববুক্স ওয়েবসাইট থেকে। আজ প্রথম পর্ব।

একটি গোপন চিঠি

Most Confidential

TO

The Superintendent of Police,

D.I.B., South 24-Parganas.

Ref: Canning PS Case No. 84 dtd 19.02.13 u/s 394/302/307/153A IPC & 25/27 Arms Act.

Sir,

In wake of the incident took place near Nalia Khali under Canning PS relating to above noted case, myself along with other officers were directed to report to Ghutiary sharif OP on 20.02.13 by 06.00 hrs. Accordingly, in compliance to the direction, myself along with Inspr. Bhaskar Das and Inspr. Bichitra Bikash Roy reported our arrival at Ghutiary sheriff on 20.02.13 at 06.15 hrs. As I was posted as OC, Ghutiary sheriff OP in the year 1994, I had organized some social and cultural activities then resulting good relation with some respected people of both the communities was grown up. During stay on that date i.e. on 20.02.13 there, I had been to Dhoaghata, Naliakhali and other places for Law & Order duty. I also exchanged some informations regarding ghastly incident of violence took place unabated in different places of Naliakhali village committed by a group of unruly Muslim people. Some fanatical zealots indulge and took active part to do such nefarious activities resulting more than 100 huts/ buildings were burnt down and their property were looted. In course of conversation, I collected some informations and circumstances compelled me to bring to your notice for your kind perusal and necessary action, if considered and approved.

2. Informations also collected that one Kutubuddin of Jibantala, Hasibur of Ghutiary sheriff, Alauddin of Dhoaghata and others took active parts for committing such incident. Some of them have got a very good interlinked like spiders net with one AHAMED HOSSAIN IMRAN, former Genl. Secy. Of SIMI (Students Islamic Movement of India), of Park Circus. This organization has been banned by the Govt. of India. However, he is at present also a member of S.I.O. (Students Islamic Organisation). It is learnt that said Imran took very active part in sending huge unruly Muslim young people with bombs and other arms from Park Circus area who reached at Naliakhali in the morning and took active part of such violence resulting huge huts were burnt down and property looted.

3. Due to the instigation of said Ahamed Hossain Imran, huge muslim young people also had been there from different places i.e. Rajabazar, Metiabruz, Mograhat, Basanti and other places.

4. Ahamed Hossain Imran has since been collecting huge foreign money to reach their unreach by penetrating into many places of State and clandestinely ushered such sordid picture of gross violence.

This is for favour of your kind information.

Yours faithfully,

24/2/13

Inspector of Police,

DEB, South 24-Parganas.

দৈনিক স্টেটসম্যানের সংবাদ

দৈনিক স্টেটসম্যান ২১ জানুয়ারি ২০১৪ মঙ্গলবার

কেডি, ইমরানকে প্ৰার্থী করে কী বার্তা দিলেন মমতা?

কলম পত্রিকার সম্পাদক ইমরান নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। জামাত ইসলামি হিন্দের সঙ্গেও ইমরানের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। এহেন ইমরানকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা নিয়েও জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, এইসব বিতর্কিত মানুষদের প্রার্থী করে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দিতে চাইছেন?

বিশেষ সূত্রে খবর, ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সিমি-র প্রতিষ্ঠা হয়, তখন সিমির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইমরান। এর আগে ইমরান মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি ছিলেন বলেও জানা গেছে। সিমি ও সর্বভারতীয় জামাত ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ সাধনেও ইমরান বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিশেষ সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৮১ সালে ১৯ নম্বর দরগা রোড পার্ক সার্কাসে কলম নামে এক মাসিক পত্রিকা শুরু করেন ইমরান। তারপর ১৯৯৩-৯৪ সাল নাগাদ কলম সাপ্তাহিকে পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে কলম চলে যায় ৪৫ নম্বর ইলিয়ট রোডে। অন্যদিকে ১৯ নম্বর দরগা রোডকে ব্যবহার করা হয় সিমির গেস্ট হাউস হিসাবে। আর সিমির সাংগঠনিক কার্যকলাপ চলে ২৭বি, লেনিন সরণি থেকে। আরও অভিযোগ, সিমির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্কেরও (আইডিবি)। এই ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার পূর্বাঞ্চলের একটি দায়িত্বেও ছিলেন ইমরান। এই ব্যাঙ্কের এমডি ছিলেন বাংলাদেশ জামাতের শীর্ষনেতা গোলাম আজমের ছেলে মামুন-আল-আজম। ইমরান মামুন-আল-আজমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন বলে অভিযোগ। আইডিবি থেকে যে অর্থ ইমরান পেতেন সেই টাকা মুসলিম সমাজের কোনও উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়নি বলেও বেশ কিছু মুসলিম সংগঠনের অভিযোগ। বাংলাদেশ জামাতের সঙ্গে ভারতের জামাতের যোগসূত্রেও ইমরানের বিশেষ ভূমিকা আছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে এনডিএ সরকারের আমলে যখন সিমিকে নিষিদ্ধ করা হয় তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এহেন ইমরানকে মমতা কেন প্রার্থী করলেন সেটাই এখন ভাবিয়ে তুলেছে রাজনৈতিক মহলকে।

নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ

নয়া দিগন্ত, ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

বাংলাদেশের সন্ত্রাসী মৌলবাদীদের আশ্ৰয় দেবেন না

মমতার প্রতি শেখ সেলিম

বাংলাদেশের সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তি পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে অভিযোগ করে তাদের কোনোভাবেই সহযোগিতা না করা, অবিলম্বে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিনিয়র সংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

সংসদে গতকাল সন্ধ্যায় পয়েন্ট অব অর্ডারে ফোর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অভিযোগ সংবলিত একটি খবর উদ্ধৃত করে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে শেখ সেলিম এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম পত্রিকায় প্রকাশিত একটি জনসভায় বিমান বসুর দেয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিমান বসু বলেছেন, বাংলাদেশে সাতক্ষীরায় যখন জামায়াত সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে তখন পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্য হাসান আহমদ তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এই হাসান আহমদ হচ্ছেন বাংলাদেশের জামায়াত সমৰ্থিত পত্রিকা নয়া দিগন্তর একজন প্রতিনিধি। অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। সেই সম্পর্কের ব্যাপারে যদি ফাটল ধরানো হয় এবং কেউ যদি ধরাতে চেষ্টা করে সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ সেলিম বলেন, ভারত একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, বাংলাদেশও একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ দিক দিয়ে আমাদের আদর্শগত মিল আছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্ৰীয় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করে মানুষের কাছে ভারত বিদ্বেষী একটি মনোভাব সৃষ্টি করার জন্য একতরফাভাবে তারা অপপ্রচার করেছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য আপ্ৰাণ চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি গঙ্গার পানি চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।

জনস্বার্থ পত্রিকার সংবাদ

জনস্বাৰ্থ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ শনিবার

নিষিদ্ধ সিমি ও জামাত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেসের ইমরান এবার রাজ্যসভায়

অনিশ্চয় রায়

১৯৭৭ সালে জঙ্গি ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া বা সিমি জন্ম নেয়, পরে ভারত সরকার তা নিষিদ্ধ করেছে। সেই সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্দিরার জরুরি অবস্থা এবং সঞ্জয় গান্ধীর নাসবন্দি অভিযানের প্রেক্ষিতে তখন মৌলবাদী মুসলমান ছাত্রদের এই সংগঠন গড়ায় মদত দিয়েছিল পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ। কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান সিমি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পশ্চিমবাংলায় সিমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বা ‘আমির-ই-হলকা’। তিনি ‘ইসলামিক মিল্লাত’ এবং জেহাদ-এর সমর্থক, মিল্লি কাউন্সিল-এর অন্যতম কর্তা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মতে, ইমরানের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ আছে মুজাহিদিন গোষ্ঠীগুলির। কারও কারও মতে, তিনি ‘পেইড ফরেন এজেন্ট’। এর সপক্ষে তাঁদের কাছে যে প্রমাণ আছে, তা তাঁরা যথাযোগ্য জায়গাতেই দেবেন। তবে একজন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বলেছেন, ‘ইমরান নিজেকে তেহরান রেডিও-র সংবাদদাতা বলে পরিচয় দিতেন। হেজবোল্লাহ-র ইমরানে তেহরান রেডিও কেন কলকাতার মতো কম গুরুত্বের জায়গায় প্রতিনিধি রাখবে, তার ব্যাখ্যা নেই। তাছাড়া, পিআইবি বা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও এমন তথ্য ছিল না।’ চার বছর সিমির নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৮১ সালে ১৯ দরগা রোড ঠিকানা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা ‘কলম’। বাংলায় নাম কলম হলেও তার ইংরাজি বানানে লেখা হয় ‘QALAM’, যার একটি অর্থ রণধ্বনি। পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হয় ১৯৯৩-৯৪ সাল নাগাদ, চলে আসে ৪৫ ইলিয়ট রোড ঠিকানায়। একটি দৈনিক পত্রিকায় প্ৰকাশ, সেই সময় দরগা রোডের বাড়িটি হয় সিমির কমিউন আর অফিস হয় লেনিন সরণির একটি বাড়ি। অসমের এআইডিইউএফ চেয়ারম্যান বদরুদ্দিন আজমলের ঘনিষ্ঠতার কারণে শুরুতেই কলমের প্রচার বেড়ে যায় অসমের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে। আলিগড়ের ছাত্র আহমেদ হাসান ইমরানের হঠাৎ একটি পত্রিকা প্রকাশ, তার বিপুল প্রসার, তাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অর্থ লগ্নি – সবই রহস্যের। কেন, কারা লগ্নিকারী, তদন্ত হলেই তার প্রকাশ সম্ভব।

কিন্তু বাংলাদেশের ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন ‘জামাত-ই-ইসলামি’র সঙ্গে তাঁর বিশেষ যোগাযোগের কথা অজানা নয়। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আসামী ঘোষিত জামাত নেতা গোলাম আজম, সেই দেশের সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ড চায়, তাঁর ছেলে মামুন-আল-আজমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন ইমরান। মামুন ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। একটি সূত্র জানাচ্ছে, মামুন কয়েকবার কলমের ইলিয়ট রোডের অফিসেও এসেছেন। তিনি ইমরানকে ইসলামিক ব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই দায়িত্ব আসলে তাঁর মাধ্যমে এপার বাংলায় ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির হাতে অর্থের যোগান অক্ষুণ্ণ রাখা। সেই কারণেই, মুসলিম সমাজের উন্নয়নের নামে আইডিবি-র দেওয়া টাকা সম্প্রদায়ের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়নি, গিয়েছে জঙ্গিদের হাতে। জামাতের সঙ্গে এবাংলার যে যে ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তার মধ্যে ইমরান ছাড়াও আছেন কলমের সঙ্গে জড়িত জনৈক আলাউদ্দিন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের নেতা কামারুজ্জামান।

এহেন ইমরানকে দেখা গিয়েছে, তসলিমা নাসরিনের লজ্জা বা উতল হাওয়া উপন্যাসের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে প্রতিবাদে সরব হতে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করে তসলিমার বই নিষিদ্ধ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। আরও কয়েকজনের সঙ্গে আদালতে মামলাও করেছিলেন। এবং তসলিমাকে কলকাতাছাড়া করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যালঘু অংশের সমাজবিরোধীদের দিয়ে বাম সরকারের আমলে ঘটানো দাঙ্গা পরিস্থিতির পিছনেও তাঁর মদত ছিল বলে প্রকাশ। তসলিমার লেখা কাহিনি-নির্ভর ধারাবাহিক ‘দুঃসহবাস’ বন্ধ করার পিছনেও তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশে শাহবাগ আন্দোলন ছিল প্রকাশ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে। ধর্মনিরপেক্ষতার শপথ নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার কিন্তু কলকাতায় শাহবাগের সমর্থনে কোনও মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। বাংলাদেশ দূতাবাসে সহমর্মিতা জানানোর জন্যও বুদ্ধিজীবীরা যেতে চাইলে, তাঁদের আটকানো হয়েছে। কিন্তু কামারুজ্জামান-আলাউদ্দিনরা সাংবাদিক সম্মেলন করে এক গুচ্ছ মুসলিম সংগঠনের নামে যে মিছিল করেন, সেখান থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ‘বাংলাদেশের জামাত-এ-ইসলামি আমাদের ভ্রাতৃসম সংগঠন।’ সেই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়ায় সাংবাদিকরা ক্ষোভ জানানোয় প্রেস ক্লাবের ভেতরেই সাংবাদিকদের আক্রমণের চেষ্টাও হয়। এ সব সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জামাতপন্থী ইমরান-কামারুজ্জামানদের সঙ্গেই থেকেছে। পাঠকদের মনে থাকবে যে, গ্রন্থাগারে কোন কোন পত্রিকা কেনা যাবে, তা নিয়ে লাইব্রেরি বিভাগ একটি তালিকা প্ৰকাশ করেছিল, যা পরে বাতিল হয়ে গেছে। দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত হওয়ার আগেই কলম সেই তালিকায় স্থান পেয়েছিল। চিটফান্ড কর্তা সুদীপ্ত সেনের মালিকানায় কলম চলে গেলেও দেখা গেল কলমের মালিকানা ইমরানেরই রয়ে গেল এবং দলীয় স্বার্থে অন্য একটি কলম পত্রিকা প্রকাশিত হল। সুদীপ্ত সেনের সংস্থা বিরাট ধাক্কা খেলেও ইমরানের কলম ফের আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রকাশিত হল।

অভিযোগ, এখনও ইমরানের মাধ্যমেই বিএনপি-জামাতের হাত হয়ে টাকা ঢুকছে। এ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। সেই টাকা সাদা না কালো, তা জানেন গোয়েন্দা কর্তারা, কিন্তু তা নিয়ে মন্তব্য করার অনুমতি তাঁদের নেই। শেখ হাসিনা এবং মনমোহন-সোনিয়া সরকার চাওয়া সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তিতে সায় দেয়নি রাজ্য সরকার ও তার প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে দারুণ উল্লসিত বাংলাদেশের জামাত-বিএনপি। শোনা যাচ্ছে, এই জোট তাই তাদের লোককে সংসদে পাঠানোর অনুরোধ জানায়। সে জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম সহায়তা দেবে, এমন কথাও হয়। ফলে, তৃণমূলও তাকে চতুর্থ প্ৰার্থী রেখে বিপুল অঙ্কের বাজেট নিয়েই বিধায়ক কেনাবেচায় নামে। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যাতেই মুকুল রায় জানিয়ে দেন যে, ইমরানের জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কোন কোন ঘোড়া তৃণমূলের আস্তাবলে ঢুকছে, তাও প্রকাশ হয়ে যায়।

Hits: 193