লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন শেষ পর্ব

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন শেষ পর্ব

বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় মডেল শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি প্রেম করে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন আদনান ফারুক হিল্লোলকে। বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব উজ্জ্বলবিকাশ দত্তের কন্যা তিন্নি মিডিয়াকে বলেছিলেন “আমার দাদু বলতেন, ‘মানুষ আপন টাকা পর, যত পারিস মানুষ ধর’ (ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)। তাই আমি টাকা নয়, মানুষকে ভালবেসেছি সব সময়।” ইসলামে যেহেতু যখন খুশি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আরেকটা বিয়ে করার সুযোগ আছে, তাই হিল্লোল নিজের বেহেশ্‌ত নিশ্চিত করার পর তিন্নিকে কন্যাসহ তালাক দিয়ে আরেক মডেল নওশীনের পিছু নেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তিন্নির বোধোদয় হয়নি, কাণ্ডজ্ঞানহীন মা-বাবার আশ্রয়ে থাকার পরও তিন্নি পুনরায় এক মুসলিম বন্ধু আদনান হুদা সাদ-কে গোপনে বিয়ে করে। একইভাবে বাংলাদেশের শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস ১০ এপ্রিল ২০১৭ মিডিয়াতে তার পুত্রসন্তান নিয়ে হাজির হয়ে বলেন ২০০৮ সালেই তিনি শাকিব খানকে গোপনে বিয়ে করেছেন। তার ধর্মান্তরিত নাম অপু ইসলাম খান। কিন্তু শাকিব এখন তাকে গ্রহণ না করে নায়িকা বুবলির পিছু নিয়েছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রন্টি দাশ তার পরিবারের মুখে চুনকালি মাখিয়ে মুসলিম যুবককে বিয়ে করেন। বাপ্পা মজুমদারের মতো সুপারস্টার শিল্পী অভিনেত্রী চাঁদনীকে বিয়ে করতে ইসলাম গ্রহণ করে হলেন বাপ্পা আহমেদ। রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারের কন্যা এপা মজুমদার মুসলিম বিবাহ করেছেন। কমল দাশগুপ্তের সন্তানরাও মুসলিম। সেকুলার কবি নির্মলেন্দু গুণের স্ত্রী-কন্যা সবাই মুসলমান বিয়ে করেছে। এই রকম শিক্ষিত-ভদ্র-সাংস্কৃতিক কিন্তু বাস্তব ধর্মজ্ঞানশূন্য পরিবারের কন্যাদের ধর্মান্তরের হার বেশি। আবার বর্ণবিচারের জাঁতাকলে ব্রাহ্মণ কন্যাগণের ধর্মান্তর অনুপাত বেশি। এসব ঘটনায়। সমস্যা কোথায়? ‘এতে হিন্দু বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে জিহাদী বংশের সূত্রপাত হয়।’ কীভাবে? দেখুন তবে—

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারের কন্যা শর্মিলা ঠাকুর মুসলিম হয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলী খানকে বিয়ে করেন। স্বামীর মতো তার পুত্র বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানও একজন লাভজিহাদী। ১৯৯১ সালে সে বিয়ে করে হিন্দু অমৃতা সিং-কে। ১৩ বছরের সংসার করে দুই সন্তানসহ অমৃতাকে তালাক দেয় সে। একথা গোপন রেখে ইটালিয়ান মডেল রোজার সাথে সে প্রেম করে তিন বছর। এরপর ২০০৭ সাল থেকে নায়িকা কারিনা কাপুরের সাথে প্রেম করে এবং ২০১২ সালে ইসলামী মতে নিকাহ্ করে। হিন্দু কারিনা হয়ে যান কারিনা কাপুর খান। খান পরিবার তাদের ছেলের নাম রেখেছে ‘তৈমুর’। ইতিহাসে তৈমুর কে ছিল জানেন?—একজন হিন্দুনিধনকারী বর্বর মুসলিম শাসক। তৈমুর নিজেকে ইসলামের তলোয়ার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনী ‘মালফুজাত-ই-তৈমুরী’-তে লিখেছেন, “আমার হিন্দুস্থান জয়ের সঙ্কল্প অনড়-অটল।…আমি সঠিক নির্দেশের জন্য পবিত্র কোরানের শরণাপন্ন হলাম। তাতে বলা হয়েছে, ‘হে মোহাম্মদ! বিধর্মী ও অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর।’ এই সময়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে এক অভিযানের প্রবল বাসনা আমার হৃদয়-মনকে আলোড়িত করে। কারণ আমি শুনেছি, জিহাদে কাফের হত্যা করলে ‘গাজী হওয়া যায় এবং নিহত হলে ‘শহীদ।” এরপর অন্যায় যুদ্ধে একের পর এক হিন্দুরাজ্য জয় করেন তৈমুর। তিনি রাজস্থানের হিন্দুরাজ্য ভাটনী ভস্মীভূত করে রাজপুত ও জাঠ সেনাদের হত্যা করে তাদের স্ত্রী-কন্যাদেরকে বন্দী করে নিয়ে তাঁর মুসলিম বাহিনীর যৌনদাসী করেন। এরপর তিনি যমুনার তীরে অতর্কিত আক্রমণ করেন ক্ষুদ্র রাজপুত বাহিনীর ওপর। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বীরদর্পে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করেন হিন্দুসেনাগণ। মৃত্যুর আগে মুসলমানদের কাছ থেকে নিজেদের স্ত্রী-কন্যাদের সন্ত্রম রক্ষার্থে তাঁদেরকে আগুনে আত্মাহুতির ব্যবস্থা করে দেন তারা, যার নাম ‘সতীদাহ’। মুসলিমদের হারেমে হিন্দু নারীদের আজীবন যৌনদাসী হয়ে থাকা ও জেহাদী বাচ্চা জন্ম দেওয়ার গ্লানিকর জীবন থেকে মুক্তির জন্যই সতীদাহ প্রথার উদ্ভব হয়েছিল। এরপর দিল্লির অভিমুখে যাত্রার পূর্বে তৈমুর অসহায় যুদ্ধবন্দী লক্ষাধিক হিন্দুকে হত্যার নির্দেশ দেন। এত বিপুলসংখ্যক শৃঙ্খলিত যুদ্ধবন্দীকে নৃশংসভাবে হত্যার দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। এমন বর্বরতা গত এক হাজার বছর ধরে হিন্দুদের ওপর চালিয়েছে প্রায় প্রত্যেক মুসলিম সুলতান-বাদশা-নবাব।

তাই ধর্মান্তরিতা কারিনা কাপুরের ছেলের ‘তৈমুর’ নামকরণ হিন্দু জাতিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন যে, কোন একজন হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলে হিন্দুর সংখ্যা শুধু কমে না, হিন্দুর শক্ৰসংখ্যাও বাড়ে। তাই অস্তিত্ব রক্ষার্থে যেকোন মূল্যে ধর্মান্তর প্রতিরোধ করতেই হবে।

ইসলামে নারীর মর্যাদা কেমন? দেখুন আল্লাহ্ কী বলছেন—“পুরুষ নারীর কর্তা।… স্ত্রীদের মধ্যে যাহাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর… তাহাদেরকে প্রহার কর।”[^1] “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।” [^2]—এই আয়াত থেকে নারী নিজেই আল্লাহর দৃষ্টিতে তার মর্যাদা ও অবস্থান খুঁজে নিক। “মানুষকে মোহগ্রস্ত করেছে নারীর মতো আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু।” [^3] অর্থাৎ নারী যে ‘ভোগ্যবস্তু’ কোরান তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে। কার ভোগ্যবস্তু? মানুষের। মানুষ কারা? পুরুষরাই মানুষ। আল্লাহর দৃষ্টিতে নারী কি তবে মানুষ নয়? হাদিসে এর উত্তরে নবীজি বলেছেন—“নিশ্চয় স্ত্রীলোক শয়তানের আকৃতিতে আগমন করে ও শয়তানের আকৃতিতে প্রত্যাবর্তন করে।” [^4] “স্ত্রীলোক শয়তানের ফাঁদ।” [^5] “নারী হলো গাধা ও কালো। কুকুরের সমতুল্য। কালো কুকুর একটা শয়তান।” [^6] পুরুষ যে কারণে তার স্ত্রীকে প্রহার করে, সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে না। [^7] এসব কারণে মুসলিম সমাজে নারী নির্যাতন অত্যধিক বেশি।

অপরদিকে হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ বেদ বলছে- “হে স্ত্রী! শ্বশুরের নিকট সম্রাজ্ঞী হও, শাশুড়ীর নিকট ম্রাজ্ঞী হও, ননদদের নিকট সম্রাজ্ঞী হও এবং দেবরদের নিকট সম্রাজ্ঞীর অধিকার প্রাপ্ত হও।” [^8] “পতি ও পত্নী মৃত্যু পর্যন্ত একসাথে থাকবেন। তারা অন্য কোন জীবনসঙ্গী গ্রহণ করবেন না বা ব্যভিচার করবেন না। এই হলো নারীপুরুষের পরম ধর্ম।” [^9] “স্ত্রীলোককে রক্ষণরূপ ধর্ম সকল বর্ণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ কর্তব্য। তাই অন্ধ, পঙ্গু ও দুর্বল স্বামীরাও নিজ নিজ স্ত্রী-কন্যাকে যত্নপূর্বক রক্ষা করবেন।” [^10] যে গৃহে নারী সুখী নয়, সে গৃহে কোন দেবতা গমন করে না। মনুসংহিতার ৯/১২ শ্লোকে বলা হয়েছে, নারীকে ঘরে আটকে রাখা মানেই নিরাপত্তা নয়। বরং তাকে বাস্তব সমাজ, নিজধর্ম, সংস্কৃতি, ভাল-মন্দ ও আত্মরক্ষা বিষয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে, যাতে বাহিরেও তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে, আর কুসঙ্গ যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। এরকম উন্নত ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু সমাজে মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত উন্নত। এখানে নারী নির্যাতন নেই বললেই চলে। স্বামী নিগৃহীতা কোন নারীকে তাই রাস্তায় দেখা যায় না। হিন্দু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা শিশুকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় না। জেলখানায় কয়েদীদের মধ্যে হিন্দু আছে ২ শতাংশেরও কম (তাও অনেকে মিথ্যা মামলায়)। সারাদেশে মুসলিম এতিম শিশুর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, কিন্তু হিন্দু অনাথ শিশুর সংখ্যা ১ হাজারেরও কম। হিন্দুরা কখনো দেশদ্রোহী ও জঙ্গী হয় না। হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরাও তুলনামূলকভাবে বেশি মেধাবী। হিন্দুধর্মে নারী যতটা স্বাধীনতা ও মর্যাদা পায় তা বিশ্বের আর কোন ধর্ম ও সমাজে পায় না। হিন্দুনারী-পুরুষ একসাথে পূজা করতে পারে। স্ত্রী ছাড়া স্বামীর কোন পূজা-যজ্ঞ সম্পন্ন হতে পারে না, তাই স্ত্রীকে সহধর্মিণী ও অর্ধাঙ্গিনী বলা হয়। মুসলিম স্ত্রীদের এটা বলা যায় না। কারণ, মুসলিম নারী-পুরুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারে না। মন্দিরে নারী দেবী পূজিতা হন। মসজিদে-ঈদগাহে নারীদের প্রবেশই নিষেধ। হিন্দুনারী পৌরোহিত্য করতে পারে, কীৰ্ত্তনে নেতৃত্ব দিতে পারে, মুসলিম নারী কখনো ইমাম হতে পারে না, আজান দিতে পারে না। নারীর নেতৃত্ব হিন্দুধর্মে ও সমাজে স্বীকৃত। ইসলামে নারীর নেতৃত্ব হারাম। বিশ্বের প্রাচীনতম ও হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বেদ রচয়িতা ঋষিদের মধ্যে ২৭ জন বিদুষী নারী ঋষি ছিলেন। বিশ্বের অন্য কোন ধর্মের গ্রন্থ রচনাতে নারীর কোন অবদান স্বীকার করাই হয়নি। হিন্দু বিবাহ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিবাহ। এটা একটা ব্রত, অবিচ্ছেদ্য, আজীবন সুখে-দুঃখে একসাথে থাকার সঙ্কল্প। কিন্তু মুসলিম বিয়ে/নিকা ‘অর্থের (দেনমোহর) বিনিময়ে সহবাস করার চুক্তি/কন্ট্রাক্ট” যা যেকোন সময় বাতিল (তালাক) করা যায়। ফলে, পুরুষের স্বেচ্ছাচারিতায় মুসলিম বধূর নিরাপত্তা সর্বদাই ভঙ্গুর ও অনিশ্চিত।

হিন্দুকন্যাদের বলছি, যদি কোন মুসলিম ছেলে তোমার প্রেমে খুব পাগল হয়, তবে তাকে পরীক্ষা করতে বলো—সে মাত্র ৬ মাস প্রতিদিন ১৬ মালা হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করুক। তারপর সে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করলে তবেই তুমি তাকে বিয়ে করবে। তোমার মা-বাবাকেও তুমি রাজি করাবে বলে জানাও। দেখবে, তার অনন্ত প্রেম হাওয়াই মিঠের মতো চুপসে গেছে। তার ভণ্ডামী ধরা পড়ে যাবে। অথচ তাকে ভালবেসে বিয়ে করতে হলে তোমাকে মা-বাবা, পরিবার, স্বজন, ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি সবকিছুই ত্যাগ করে আজীবন দাসী হয়ে থাকতে হবে। ভাবো। সিদ্ধান্ত তোমার।

ধর্ম ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই পত্রটি ফটোকপি করে আপনার পরিচিত সকল হিন্দুকে পড়ান। ধর্ম রক্ষতি রক্ষিতঃ। জয় শ্রীরাম।

[^1]: কোরান ৪/৩৪

[^2]: কোরান ২/২২৩

[^3]: কোরান ৩/১৪

[^4]: ১৫, মোসলেম

[^5]: শোবল ঈমান, পৃ. ১৮৮

[^6]: ১০৩৩, মুসলিম শরীফ

[^7]: আবু দাউদ, ইবনে মাজা, পৃ. ১৩৪

[^8]: ঋগ্বেদ ১০/৮৫/৪৬

[^9]: মনুসংহিতা, ৯/১০১

[^10]: মনুসংহিতা, ৯/৬

Hits: 423

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

লাভ জিহাদ প্রতিরোধ করুন প্রথম পর্ব

‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।’- শ্রীকৃষ্ণ

প্রতিটি হিন্দুকন্যাই ধর্মান্তরের জন্য টার্গেট হয়ে থাকে। এমনকি সহজসরল মেধাবী হিন্দু ছেলেরাও টার্গেট হয়ে থাকে। আপনি সতর্ক আছেন তো? আপনার পরিবার-স্বজন সবাই সুরক্ষিত তো?

“পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। …কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারাজীবন পোড়ায়।’ কথাটা বলেছেন কবিগুরু শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই প্রেম বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রতিটি মেয়ের জন্যই জরুরী। বয়ঃসন্ধির পর থেকে প্রতিটি মেয়েই প্রেম করতে চায়। কলেজে ওঠার পর মেয়েরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াবে, এটাই স্বাভাবিক। যৌবনে শরীরের হরমোন মা-বাবার নিষেধাজ্ঞা মানে না। তবে মেয়ে যেন বিপথে পা না বাড়ায়, সেদিকে সতর্ক হওয়াটাই মা-বাবার কর্তব্য। কোন হিন্দু মেয়ের পক্ষে কোন মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম করা কখনই উচিত নয়, কারণ তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে। তার চেয়ে বরং যেকোন বর্ণের হিন্দু ছেলে শতগুণে উত্তম। কিন্তু কেন?

অতীতে জিহাদী মুসলমানরা এক হাতে তলোয়ার, আরেক হাতে কোরান নিয়ে অমুসলিমদের নির্দেশ দিত, হয় ইসলাম গ্রহণ কর, নয়তো মৃত্যু। এভাবে গত ১৩শ বছরে লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। এযুগে আর এত সহজে হত্যা করা যায় না। তাই কৌশল বদলেছে। বর্তমানে ভারতবর্ষে ইসলাম বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার হিন্দু মেয়ে বিয়ে ও বেশি সন্তান জন্মদান। ছলে-বলে-কৌশলে মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা তাদের উদ্দেশ্য। অতীতে রাজ্যহারা পরাধীন হিন্দুগণ অস্তিত্ব, সম্ভ্রম ও জীবন রক্ষার্থে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হতো অথবা নির্যাতন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, দেশান্তর বা মৃত্যুকে স্বীকার করে নিত তবু ইসলাম গ্রহণ করত না। এই বীর, সাহসী, ধর্মপ্রাণ হিন্দুদেরই বংশধর আজকের বাংলাদেশের হিন্দুরা। কিন্তু অবাক হতে হয়, হিন্দু ছেলেমেয়েরা নিজেদের ইতিহাস, ধর্ম বা ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট না জেনেই স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু কী সেই আকর্ষণ?

“আমাকে কেউ অপহরণ করেনি, আমি স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছি। স্বেচ্ছায় হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছি। আমি স্বামীর সাথেই থাকতে চাই।” বাংলাদেশে প্রতি বছর শতশত হিন্দু কন্যা প্রেমের টানে আদালতে, সালিশে, পুলিশের কাছে বা সাংবাদিকের কাছে এই কথাটাই বলে। ফলে শতশত হিন্দু মা-বাবা বুক চাপড়ে কাঁদে। শতশত সংসারের সুখ-শান্তি বিলীন হয়, বংশ-মর্যাদা, সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। ওই মা-বাবাকে বাকিটা জীবন সমাজে মাথা নীচু করে চলতে হয়। একটি সন্তান মরে যাওয়ার চেয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়া শতগুণে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। সন্তান মারা গেলে দুই-চার মাস পর থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু সন্তান ধর্মান্তরিত হলে এই কষ্ট, কলঙ্ক, লজ্জা ও অপমান বয়ে বেড়াতে হয় সারাটা জীবন। ভাবছেন এসব ঘটনার জন্য সন্তান দায়ী? না, প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্মান্তরের জন্য মেয়েরা দায়ী নয়। মেয়েরা ঘরে থাকার কারণে সমাজ ও বাস্তবতা কম বোঝে। এছাড়া তারা পরিবারে ধর্মশিক্ষাও পায় না। তাই ধর্মান্তরের জন্য প্রায় আশি ভাগ দায়ী মা-বাবারা। আর বিশ ভাগ দায়ী হিন্দুদের দুর্বল সমাজব্যবস্থা। যাঁদের সন্তান ধর্মান্তরিত হয়, তাঁরা মূলত নিজেদেরই কর্মফল ভোগ করেন। প্রকৃতপক্ষে একটি-দুটি নয়, হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের সুখের সংসার তছনছ হয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা প্রেমের কারণে। কারণ এই প্রেমের পরিণতিতে হিন্দু মেয়েটিকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করতে হয়, মা-বাবা-আত্মীয়-স্বজন সবাইকে চিরদিনের জন্য ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়, স্বাধীন দেবীতুল্য হিন্দু নারী থেকে পর্দাবন্দী মুসলিম যৌনদাসী নারীতে রূপান্তরিত হতে হয়, নির্মল সাত্ত্বিক আহার ত্যাগ করে ঘৃণ্য গোমাংস ভক্ষণ করতে হয়। অর্থাৎ প্রেম অপেক্ষা ধর্মান্তর করাটাই মুসলিম প্রেমিকের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই প্রেমের মাধ্যমে অমুসলিম নারীকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার যে নীরব আন্দোলন বিশ্বজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে এরই নাম ‘লাভ জিহাদ’। তাই প্রেম করার আগে সতর্ক হোন। নিজের পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের লাভ জিহাদ বিষয়ে সতর্ক করুন।

বর্তমানে ছেলেমেয়েদের যত প্রেমের ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগ ঘটে মোবাইলের মাধ্যমে। হিন্দু মেয়ের মুসলিম বন্ধু/বান্ধবীরা তাদের মুসলিম বন্ধুদেরকে হিন্দু মেয়ের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে বা পরিচয় করিয়ে দেয় এবং প্রেম করার জন্য ফুসলানি দেয়। ফেসবুকের মাধ্যমেও পরিচয় ও প্রেম হওয়ার ঘটনা ঘটে প্রচুর। হিন্দু সেজেও অনেক মুসলিম যুবককে হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম করে প্রতারণা করতে দেখা গেছে। প্রাইভেট শিক্ষক যদি মুসলিম যুবক হয় তবে তো পোয়া বারো, এ তো শিয়ালের কাছে মুরগিকে পড়তে দেওয়া। কলেজে ক্লাসনোট সরবরাহ, ক্লাসে সিট ধরে রাখা, শপিঙে সাথে যাওয়া, মোবাইলে/ফেসবুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, মানসিক সাপোর্ট দেওয়া, হিন্দুধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, দুচ্ছাই করার পরও হিন্দু মেয়ের পেছনে লেগেই থাকা—এসবই হলো মেয়েকে মানসিকভাবে দুর্বল করে প্রেমের ফাঁদে ফেলার কৌশল। এর ফলে মুসলিম যুবকের ওপর মানসিক ও বাহ্যিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে হিন্দু মেয়েটি। ফাঁদে পড়া মেয়েরা গোপনে, এমনকি মা-বাবার সামনেও মোবাইলে মেসেজিং করে কথা চালাতে থাকে। হিন্দু বন্ধুদের এড়িয়ে চলে। তার জন্য মা-বাবা ও বন্ধুদের কাছে যেকোন প্রকার মিথ্যা কথা বলতেও দ্বিধা করে না; স্রেফ বন্ধু বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু যে ছেলে-মেয়ে সর্বদা দুজনে ঘোরে তারা কখনো স্রেফ বন্ধু থাকতে পারে না। ওরা দ্রুত শরীর স্পর্শ করে, সম্পর্ক গভীর করতে তৎপর থাকে। পরিবারের সাথে থাকা মেয়েদেরকে মুসলিম যুবকরা প্রায়শ সস্তা মোবাইল সেট গিফ্ট করে। মেয়ে তা লুকিয়ে রেখে সময়মতো কথা বলে। ওদিকে মাঝেমধ্যে ছেলেটি হিন্দুধর্ম বিষয়ে টুকটাক প্রশ্ন করে যার উত্তর মেয়ের কাছে থাকে না। ইসলামের সরলতা ও মহত্ত্ব বিষয়ে বলা শুরু করে। এমনকি বশীকরণ মন্ত্র, তন্ত্র বা খাদ্যে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো এসবের প্রয়োগও চলে। এরপর হয় ব্রেইনওয়াশ, ধর্মান্তর ও বিয়ে। এমনকি ধর্মের বোন অথবা মা ডেকেও গোপন অভিসারে হিন্দুকন্যা/গৃহবধূকে নিয়ে চম্পট দেওয়ার রেকর্ড আছে। ওরা জানে, একবার পবিত্র হিন্দু মেয়েটার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারলে সে তার জন্য পাগল হয়ে যাবে, সব ছেড়ে তার কাছে ছুটে আসতে বাধ্য হবে। রাজসিক খাদ্যাভ্যাস এবং খৎনা করার কারণে মুসলিম পুরুষদের যৌনাকাঙ্ক্ষা সর্বদাই তীব্র থাকে। তাই দ্রুত শারীরিক সম্পর্ক করতে ওরা খুবই তৎপর। অথচ ঈশ্বরের সৃষ্টিকে বিকৃত করে পুরুষাঙ্গের অগ্রচর্ম কেটে ফেলা (খৎনা) প্রকৃতপক্ষে যৌনাঙ্গ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বৈজ্ঞানিক বিচারে খুবই ক্ষতিকর। ওদের অন্ধবিশ্বাস, একটা হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তর করতে পারলে মুসলিম যুবকটির আজীবনের সব পাপ মাফ হয়ে যাবে, জান্নাতুল ফেরদৌস নামক কাল্পনিক বেহেশ্‌ত নিশ্চিত হয়ে যাবে। অতএব, প্রেমের মাধ্যমে যদি বেহেশ্‌ত পাওয়া যায়, সেইসাথে সতী, রূপবতী, গুণবতী যুবতীও পাওয়া যায়, তবে এজন্য তারা মরিয়া তো হবেই। এই লাভ জিহাদে যারা সহযোগিতা করবে তারাও ছোয়াবের অংশীদার হবে। তাই সকল মুসলমানই একজন লাভ জিহাদীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে।

এ বিষয়ে মেয়েটির মা-বাবাকে জানালেও অনেকসময় তাঁরা তা পাত্তা দেন না, ভাবেন তাঁর মেয়ের মতো লক্ষ্মী মেয়ে হয়ই না। দুষ্ট লোকেরা রটাচ্ছে। মনে রাখবেন, একাদশী পালন বা পূজা-সন্ধ্যা করার সাথে প্রেম ও ধর্মান্তরের কোন সম্পর্ক নেই। অনেক ইস্কন-ভক্ত মেয়েও মুসলিম বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়েছে। আগেরদিন সন্ধ্যাপূজা করে পরদিন মুসলিম ছেলের সাথে ভেগেছে—এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে। এরপর যখন ঘটনা প্রকাশিত হয়ে পড়ে তখন হাজার চেষ্টাতেও মেয়েকে আর আটকানো যায় না। মেয়েটি গৃহত্যাগী হয়ে বিয়ে করে। তারপর? দেহসুখ ও আবেগনির্ভর প্রেম বছর ঘুরতেই দরজা দিয়ে পালায়। মানসিক দ্বন্দ্ব তো মাস দুয়েকের মধ্যেই শুরু হয়ে যায়। ভিন্ন সংস্কৃতি, জাতি, ধর্ম, রীতি-নীতি, মানসিকতা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার সাথে মানিয়ে চলা দুঃসহ হয়ে পড়ে। কিন্তু তখন মেয়েটির আর পেছনে ফেরার সুযোগ থাকে না। তার মা-বাবা, আত্মীয়, সমাজ তাকে ত্যাজ্য করে (এমনটা করবেন না)। বিপদের সময় পায়ের নিচে নির্ভরতার মাটি থাকে না। যার পরিণতি ভয়ঙ্কর; যেমন- ১। ৯৯ শতাংশ হিন্দু মেয়ে মুসলিম গৃহে সেবাদাসীর মতো মুখ বুজে যন্ত্রণাময় অভিশপ্ত জীবন যাপন করে। তার ওপর হওয়া কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না, এমনকি পরিবার/আত্মীয়/বন্ধু মহলের পুরুষ কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হতে হয় তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। কিন্তু হিন্দু গৃহবধূ নিরুপায় থাকে। প্রতিবাদ করলেই তালাক বা নির্যাতন। তাই হতাশা-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার দৃষ্টান্ত আছে শতশত। ২। ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করে কিছুকাল প্রেমিকের শয্যাসঙ্গী থেকে দুয়েকটি বাচ্চাসহ তালাকপ্রাপ্ত হতে হয়। তারপর সব হারিয়ে তার গন্তব্য হয় সমাজের অন্ধগলিতে। ৩। ব্রেইনওয়াশের শিকার ধর্মান্তরিত হিন্দুই কালাপাহাড়ের মতো ভয়ঙ্কর হিন্দুবিদ্বেষী ও উগ্র ইসলামপন্থী হয়ে ওঠে। তারাই জঙ্গী হচ্ছে, ইসলামের প্রচারক হচ্ছে, অন্য হিন্দুদেরকে ধর্মান্তরিত হতে/করতে ব্রেইনওয়াশ দিচ্ছে। ধর্মান্তরিত অনেক হিন্দু যুবক বাংলাদেশেও জঙ্গী হয়েছে। আর মেয়েদের দায়িত্ব থাকে সুইসাইড স্কোয়াড ও সেক্সজিহাদ করা। সেক্সজিহাদী যুবতী নারীর দায়িত্ব হলো ইসলামপন্থী জিহাদী পুরুষকে দেহসম্ভোগ করিয়ে মনোরঞ্জন ও চাঙ্গা করা। ৪। কিছুকিছু ক্ষেত্রে হিন্দু মেয়েকে ধর্মান্তরিত ও বিয়ে করে কিছুকাল ভোগ করে পতিতালয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দৌলতদিয়া, টাঙ্গাইল, ঢাকাসহ বাংলাদেশের পতিতালয়গুলোতে এরূপ নিবন্ধিত পতিতার সংখ্যা ৯ শতাধিক। হিন্দু যুবতী বেশ্যার রেট বেশি। এছাড়া দিল্লী, মুম্বাই ও আরবে পাচার হয় কত সংখ্যক হিন্দু মেয়ে-তার হিসেব নেই।

মা-বাবা ও হিন্দুহিতৈষীগণ ভাবছেন তাহলে উপায় কী? সমাধান বলছি। নিজেদের সম্মান, ধর্ম ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে এগুলো মেনে চলুন।

  • ১। ভ্রান্ত বর্ণবাদ-জাতিভেদ ত্যাগ করুন। গীতার ৪/১৩ শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট বলেছেন, গুণ-কর্ম অনুযায়ী বর্ণবিচার, জন্মানুসারে নয়। গুণ ও কর্ম অনুসারে যেকোন হিন্দু ছেলেমেয়ের যোগ্যতা মূল্যায়ন করুন, জন্ম অনুসারে নয়। আপনি কি ভগবানের বিরুদ্ধাচরণ করবেন?
  • ২। দুষ্টের বিনাশ, সাধুদের সুরক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপন-ভগবানের এই মহৎ কর্মে সর্বদা সংযুক্ত থাকুন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন ও ধর্মসংস্থাপনের জন্য সকল হিন্দু দেব-দেবী অস্ত্রসজ্জিত। এ থেকে আপনি কী শিক্ষা পান? দেবতার মূর্তি এসে কখনো আপনাকে উদ্ধার করেনি, করবেও না। আপনার হৃদয়স্থ দেবতাকে জাগ্রত করুন। আপনার গৃহে যদি আত্মরক্ষার জন্য অন্তত দেশী অস্ত্রও না রাখেন তবে আপনার মতো কাপুরুষ ভক্তের প্রতি অস্ত্রধারী দেবতা কি খুশী হবেন? হরিনামেই যদি সব সমাধান হতো তবে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যুদ্ধ না করে জপ-কীৰ্ত্তন-পূজা করতে বলতেন। ‘তস্মাৎ সর্বেষু কালেষু মামনুস্মর যুধ্য চ’—সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করো এবং ধর্মযুদ্ধ করো।’—এই হলো গীতার মূল কথা। গীতার বার্তা বুঝতে পারেনি বলেই শতভাগ হিন্দুদের দেশে আজ হিন্দুরাই সংখ্যালঘু হয়ে মার খাচ্ছে, পালাচ্ছে।
  • ৩। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের নির্দেশ—সঙ্ঘশক্তি কলৌযুগে। কলিযুগে সঙ্ঘই শক্তি। মহাপ্রভু নিজেই সহস্র ভক্তমণ্ডলী নিয়ে হিন্দুবিদ্বেষী অত্যাচারী কাজীর ভবনে হামলা করে হিন্দু সঙ্ঘশক্তির বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাই হিন্দুদেরকে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে এবং হিন্দু সঙ্ঘগুলোকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে হবে। সম্প্রদায়-মত-বর্ণ নির্বিশেষে একজন হিন্দুর সর্বোচ্চ পরিচয় সে ‘হিন্দু’। হিন্দু ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করুন। নামযজ্ঞের সংখ্যা কমিয়ে ধর্মসভা, ধর্মালোচনা, হিন্দু সম্মেলন করুন। চিন্তা-ভাবনা করে ধর্মানুষ্ঠান করুন যাতে জাতিগঠন এবং ধর্মপ্রতিষ্ঠা হয়।
  • ৪। হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠানে, মন্দিরে বা বাড়ির ভেতর অহিন্দুদের আমন্ত্রণ জানানো বন্ধ করুন। হিন্দু মেয়ে-বউদের দেখিয়ে দেওয়া, পরিচয় করে দেওয়া, টার্গেট বানানো, বউদের পেট-পিঠ দেখানো শাড়ি পরিয়ে শরীর দেখানো, উৎসবগুলোতে মেলামেশার সুযোগ তো হিন্দুরাই করে দেয়, তাই না? এই কাজগুলো তারা কি কখনো করে? সতর্ক হয়ে বন্ধ করুন এসব। মন্দিরে অপসংস্কৃতির নাচ-গান বন্ধ করুন।
  • ৫। পূজা এবং নামযজ্ঞের বাজেট কমিয়ে সেই টাকা দিয়ে দরিদ্র হিন্দু শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিন, দুঃস্থের পাশে দাঁড়ান। হিন্দুদের লক্ষ লক্ষ টাকা অস্থায়ী প্যান্ডেল, গেট, সাউন্ড সিস্টেম, লাইটিং-এ অপব্যয় না করে স্থায়ী মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়ন ও সংস্কারে কাজে লাগান। মন্দিরভিত্তিক ‘ধর্মসেবা ফান্ড’ গঠন করুন।
  • ৬। যতগুলো সন্তানকে ডাল-ভাত খাওয়ানো ও পড়ানোর সামর্থ্য ভগবান আপনাকে দিয়েছেন ততগুলোই সন্তান নিন। ‘ভ্রূণহত্যা মহাপাপ।’ ‘তিনটি সন্তানের কম নয়, বেশি হলে ভাল হয়।’ দূরদর্শী হোন, আপনার পৈত্রিক ভিটেমাটি ও সম্পত্তি রক্ষা করা আপনার পবিত্র কর্তব্য। এ যেন অসুরদের ভোগে চলে না যায়।
  • ৭। কাণ্ডজ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক হিন্দুঘরে সনাতন ধর্ম ও ইসলাম উভয় সম্পর্কেই তুলনামূলক আলোচনা করুন। যেমনটা ওরা করে। ইসলামের প্রকৃত স্বরূপ সবাইকে জানতে ও জানাতে হবে। দুঃখের বিষয়, বাস্তবে কোন ধর্ম সম্পর্কেই হিন্দুরা সঠিক জ্ঞান রাখে না। রাধা যে কৃষ্ণের মামী বা স্ত্রী নয় এবং শিবলিঙ্গ যে শিবের যৌনাঙ্গ নয় —এ কথা কতজন হিন্দু জানে? আবার অন্য ধর্ম সম্পর্কে যা জানে তাও ভুল জানে। সকল ধর্মই সত্য ও সুন্দর, সকল ধর্মই মানবতার কথা বলে, যে আল্লাহ সেই ভগবান, রাম রহিম সমান, সবার উপরে মানুষ সত্য, যত মত তত পথ ইত্যাদি মুখরোচক মিথ্যা কথাগুলো শুধুমাত্র হিন্দুরাই বিশ্বাস করে। খ্রীস্টান, মুসলমান-কেউই এসব মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে না। তারা নিজনিজ ধর্মকেই সত্য ও শ্রেষ্ঠ বলে বিশ্বাস করে। হিন্দুরা ভণ্ড/মূর্খ গুরুদের অনুসারী হয়ে এসব ফালতু কথা বলে বা ভুল বোঝে। অনেকে বলেন, ইসলাম ভাল, মুসলমানরা খারাপ। কিন্তু বাস্তব সত্যটা হলো, ইসলামের চেয়ে মুসলমানরাই বরং ভাল। মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেটকে পর্যবেক্ষণ করলেই এটা বুঝবেন। ইসলাম মতে মানুষ দু’রকমের—মুসলমান এবং অমুসলমান (কাফের)। কোরান মতে, একজন মুসলমানের পক্ষে সব থেকে পুণ্যের কাজ হল জিহাদ করা, অর্থাৎ ইসলাম কায়েম করা, না মানলে কাফের ও মুশরিকদের হত্যা করা। তাই কোরানের নির্দেশ হল—কাফেরদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা কর, তাদের গর্দানের ওপর আঘাত কর এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়, তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দাও, তাদের সর্ব লুট কর, তাদের মহিলাদের ধর্ষণ কর, তাদের শিশুদের আছাড় দিয়ে মেরে ফেল ইত্যাদি। বিশ্বাস না হলে পড়ে দেখুন কোরানের ৪/৩, ৭৪, ৭৬, ৯৪-৯৬, ১০১; ৮/১২-৪০, ৪১, ৫৫-৭৫; ৯/৫, ১৪, ২৮, ২৯, ৩৩, ৬৮, ৭২, ৭৩, ১১১, ১১৩, ১২৩; ১৪/১৬-১৮; ২২/১৯, ২৩, ৭৮; ৪৭/১-১৫; ৪৮/২৮, ২৯; ৫৫/৪১-৭৮; ৫৬/১২-১৯ এই আয়াতগুলো। অতএব, সাধু সাবধান। চ্যালা মাছ যেমন কাদার মধ্যে থাকে কিন্তু গায়ে কাদা লাগে না, তেমনি হিন্দুদেরকেও সবার সাথেই মিলেমিশে থাকতে হবে, কিন্তু গায়ে কাদা লাগানো যাবে না, যেমন অন্যরা লাগায় না।

লেখক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক

(পরের পর্বে সমাপ্য)

Hits: 473