উল্টোপূজার রোগ

মারলে মারুক, কাটলে কাটুক, লাগলে লাগুক ব্যথা।
ভুলেও তবু আনি না মুখে, প্রতিশোধের কথা।
সাবাড় হয়ে, উজাড় হয়ে, পেলাম গভীর শোক।
হঠাৎ চেপে ধরল আমায় উল্টোপূজার রোগ।
যাদের কোপে ভিটে ছেড়ে এলাম তড়িঘড়ি,
হেসেখেলে দুই বেলা রোজ তাদের স্মরণ করি।
রহিম চাচা, করিম চাচা, ইসমাইলের ফৌজ।
দিদি ওদের বাঁদি হল, ভাইগুলো নিখোঁজ।
বাপকে ওরা পুঁতে দিল, মাকে দিল ছাড়;
রহিম চাচার অনেক দয়া, করুণা অপার।
করিম চাচা করিয়ে দিলেন কলকাতাতে পাড়ি।
একটু না হয় দুষ্টু চাচা, ভালোমানুষ ভারী।
সাম্প্রদায়িক স্মৃতিগুলো দেখায় খালি ভয়,
এসব কথা লাভ কী ভেবে? ভুলে গেলেই হয়।
আস্তে বলি, চিল্‌লে বলি, কাঁপিয়ে দেই মাঠ।
বাস্তু হারায় পেয়েছি আমি যাদবপুরের ফ্ল্যাট।
ভাবতে এখন ভালোই লাগে, নিজের খাটে বসে।
ক্ষতির থেকে লাভই বেশি, দেখছি আমি কষে।
ওরা যতই অশান্ত হোক, কাঁপিয়ে তুলুক বাড়ি;
ওদের মতন অসহিষ্ণু, আমরা কি আর পারি?
আমার মতন সহিষ্ণুতা, কেন যে আর নাই।
উল্টোপূজার রোগটা আমি ছড়িয়ে দিতে চাই।
এ রোগ আমার মনের মতন, নরক দেখায় স্বর্গ।
অত্যাচারীর অত্যাচারেই লাঞ্ছিতাদের গর্ব।

স্মৃতিলেখা চক্রবর্তী

Hits: 243

One thought on “উল্টোপূজার রোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *